বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের সময় পশ্চিমবঙ্গে নারী গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের চেষ্টা করার সময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার (১৯ জুলাই) উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তার হওয়া নারীর নাম পূজা বিশ্বাস (৪৬)। তার কাছ থেকে ৯ মিলিমিটার ও ৭ মিলিমিটার ক্যালিবারের পিস্তলসহ মোট ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অশোকনগর হয়ে বাংলাদেশে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গুলি পাচারের একটি পরিকল্পনার বিষয়ে আগাম তথ্য পেয়েছিল সিআইডি। গোয়েন্দাদের কাছে আরও তথ্য ছিল, এ চক্রের সঙ্গে এক মধ্যবয়সী নারী জড়িত।
এ তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে অশোকনগরের ৮ নম্বর এলাকায় সাদা পোশাকে অবস্থান নেন সিআইডির সদস্যরা। পরে নৈহাটি-অশোকনগর সড়কে একটি চার চাকার গাড়িতে করে আসা ওই নারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এরপর তার সঙ্গে থাকা একটি বড় ব্যাগ তল্লাশি করে জামাকাপড় ও শাড়ির নিচে কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২০০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৯ মিলিমিটার ও ৭ মিলিমিটার পিস্তল রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের পরই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, পূজা বিশ্বাস এর আগে কয়েকবার বিহারের মুঙ্গেরে গিয়েছিলেন এবং স্থানীয় অপরাধীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে এক বাংলাদেশি অস্ত্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো এবং সেই ব্যবসায়ীর চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র সংগ্রহ করতেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই সীমান্তের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সিআইডির অভিযানে তা জব্দ করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা চৈতালি দত্ত কুণ্ডু জানান, হঠাৎ হৈচৈ শুনে বাইরে এসে দেখেন সিআইডির সদস্য, নারী কনস্টেবল ও পুলিশ কর্মকর্তারা এক নারীকে ঘিরে রেখেছেন। পরে জানতে পারেন, তার কাছ থেকে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। তিনি বলেন, এত নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে বড় কোনো চক্র থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।








