Logo

মোদির বিরুদ্ধে ‘অশালীন ভাষা’ ব্যবহারের অভিযোগে নারীর বিরুদ্ধে মামলা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৭:১৮
মোদির বিরুদ্ধে ‘অশালীন ভাষা’ ব্যবহারের অভিযোগে নারীর বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে ‘অশালীন ভাষা’ ব্যবহারের অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আয়োজিত এক বিক্ষোভে ওই মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত রুচিকা সিং গত ২৩ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, রুচিকা সিংয়ের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভাজন সৃষ্টি, জনমনে অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। জিরো এফআইআর হলো এমন একটি মামলা, যা অপরাধটি যে এলাকায় ঘটেছে, সেই এলাকার থানায় নয়, দেশের যেকোনো থানায় দায়ের করা যায়। পরে মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

রুচিকা সিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৩৫২,৩৫৩ (১) ও ৩৫৬ (১) ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি করতে উসকানি দেওয়া, জনসাধারণের মধ্যে ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো এবং মানহানির মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এফআইআরটি পরে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন সেখানেই মামলাটির পরবর্তী তদন্ত হবে।

ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, রুচিকা সিংয়ের মন্তব্য ভুল হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় পুলিশের ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, কেউ যদি এমন কোনো ভাষা ব্যবহার করে থাকে যা অবমাননাকর, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মানহানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করার অধিকার রাখেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বা ফৌজদারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের জন্য কাউকে ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সৌরভ আরও বলেন, ‘আমি বলছি না যে ওই ভাষা সঠিক ছিল। ভাষাটি ভুল হতে পারে, কারও কাছে তা আপত্তিকরও মনে হতে পারে। কিন্তু সে কারণে মানুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া ঠিক নয়। এর ফলে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতে তারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধা বোধ করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে আমি মনে করি, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সৌরভ দাস আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে আমি তরুণ প্রজন্মের সবাইকে অনুরোধ করব, তারা যেন নিজেদের বক্তব্য নিয়ে খুব সতর্ক থাকে। বিশেষ করে অন্য মানুষদের সম্পর্কে কী ধরনের অপমানজনক শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা উচিত। তবে তার পরও ফৌজদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এমনটা হওয়া উচিত নয়। আমরা পুলিশকেও শান্ত থাকার এবং কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার না করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লি সরকার জানিয়েছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত আন্দোলনের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।

বিজ্ঞাপন

দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে এবং সেই অঙ্গীকার থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়েছে। তবে কেউ যদি নিজের অপরাধমূলক অতীতকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD