১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ায় ফের ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প

৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৩৪১টি আফটারশকের মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ায় আবারও ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর সুমাত্রার অন্যতম বড় শহর পেমাতাংসিয়ানতার থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৮৩ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে।
এখন পর্যন্ত উত্তর সুমাত্রায় নতুন এই ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
এর আগে শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাগরের তলদেশে, ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রধান ভূমিকম্পের পর সেখানে ৩৪১টি আফটারশক হয়। তবে এসব পরাঘাতের বেশিরভাগের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
সাগরের তলদেশে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হওয়ায় প্রথমে সুনামির সতর্কতা জারি করেছিল ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর। পরে সুনামির কোনো লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে পূর্ব ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৫৪টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। এ ছাড়া কয়েক শ বাড়িঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রথম ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই একই দিন সন্ধ্যায় নতুন করে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে।
ভৌগোলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রায় ১ হাজার ৭০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থান করায় প্রায়ই এ ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হয়।
বিজ্ঞাপন
ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে ২০০৪ সালে। সে সময় ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামিতে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স








