Logo

আতঙ্কে কলকাতা ছেড়ে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশিরা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ আগস্ট, ২০২৬, ২০:১২
আতঙ্কে কলকাতা ছেড়ে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশিরা
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর পর বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। প্রশাসনের অগ্নিনিরাপত্তা অভিযানে ১১টির বেশি হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে দ্রুত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ বিকল্প আবাসনের খোঁজে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরছেন।

বিজ্ঞাপন

মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরের আগুনে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। এই ঘটনার পর কলকাতা প্রশাসন নিউ মার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরু করে। নিরাপত্তা বিধিতে ত্রুটি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের কাছে নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট বহুদিনের পরিচিত এলাকা। তুলনামূলক কম খরচে থাকার সুযোগ থাকায় চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেকেই এসব এলাকার হোটেলে অবস্থান করেন। অগ্নিকাণ্ডের পর সেই পরিচিত এলাকাতেই এখন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাবনার বাসিন্দা মোহাম্মদ খুরশিদ আলম ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল পরিবর্তন করেছেন। তার ভাষ্য, বাংলাদেশে থাকা স্ত্রী ও বাবা-মা আগুনের খবর পাওয়ার পর তাকে দ্রুত দেশে ফিরে আসতে অনুরোধ করেন।

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন ভোগান্তিও তৈরি হয়েছে। অনেক অতিথিকে হঠাৎ করে হোটেল ছাড়তে বলা হচ্ছে। এরপর বিকল্প আবাসন খুঁজতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতির কারণে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটক তাদের ফেরার টিকিটও এগিয়ে নিয়েছেন। ঢাকার বাসিন্দা ইসমাইল সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রশাসনের অভিযানের মধ্যে আটকে পড়ার ঝুঁকি নিতে চান না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কলকাতায় যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকার অনেক ব্যবসা বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। হোটেল বন্ধের পাশাপাশি পর্যটকের সংখ্যা কমে গেলে রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কলকাতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হঠাৎ আবাসন সংকটে পড়া পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রার্থীদের জন্য বিকল্প থাকার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD