Logo

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নতুন বার্তা জয়শঙ্করের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:১৯
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নতুন বার্তা জয়শঙ্করের
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তার মতে, উভয় পক্ষের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় করে একটি অভিন্ন জায়গা খুঁজে বের করা গেলে সম্পর্ক কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে থাকা ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি এবং বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও এসব বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি জয়শঙ্কর। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির সাধারণ অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তখনই টেকসই হয়, যখন উভয় দেশই সেই সম্পর্ক থেকে কিছুটা লাভবান হয়। এক পক্ষ কেবল নিজের স্বার্থ বিবেচনা করে অন্য পক্ষের কাছে প্রত্যাশা করতে পারে না। একইভাবে সম্পর্কের অন্য পক্ষের স্বার্থকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দুই দেশের স্বার্থ যেখানে পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়, সেই ‘কমন গ্রাউন্ড’ বা অভিন্ন জায়গাই সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও কার্যকর রাখার ভিত্তি তৈরি করে।

হাসিনাকে ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তি

জয়শঙ্করের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন শেখ হাসিনাকে নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন রয়েছে। বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে সফরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি।

দুই দেশের সম্পর্কের নানা মতবিরোধের মধ্যেও সম্ভাব্য এই সফরকে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। তবে হাসিনার প্রত্যর্পণসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে অবস্থানগত পার্থক্য থাকায় ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতি কতটা দ্রুত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমঝোতার ওপর জোর

বিজ্ঞাপন

জয়শঙ্করের বক্তব্যে সরাসরি বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট ইস্যুর সমাধান বা সিদ্ধান্তের কথা না থাকলেও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে একতরফা প্রত্যাশার বদলে উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করে সমঝোতার জায়গা তৈরি করা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক ঝুঁকি কমানোর তাগিদ

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকি কমানো বা ‘ডি-রিস্কিং’ এখন গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি, সার ও আন্তর্জাতিক নৌপথের বাজারে অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোনো একটি দেশ বা উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস ও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় আকস্মিক সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব মোকাবিলা করা সহজ হবে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কেও ভারসাম্যের কথা

বিজ্ঞাপন

চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জয়শঙ্কর। তবে এর পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়াতে হবে বলে তিনি মত দেন।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD