নিউইয়র্ক শহরে সরকারি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা মামদানির

সরকারি উদ্যোগে নিউইয়র্ক শহরে পাঁচটি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এসব দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৭ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউইয়র্কের প্রতিটি বরোতে একটি করে সরকারি মুদি দোকান চালু করা হবে। এর মধ্যে ইস্ট হারলেম এলাকায় একটি দোকান স্থাপনে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। দোকান পরিচালনার জন্য শহর কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞ মুদি ব্যবসায়ীদের বিনা ভাড়ায় জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
মামদানির প্রশাসনের দাবি, খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ কমানো এবং যেসব এলাকায় তাজা ও পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা কম, সেসব এলাকার মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নিউইয়র্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সমস্যায় ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে উদ্যোগটি নিয়ে নিউইয়র্কের স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি সহায়তায় পরিচালিত দোকানগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করলে ছোট ব্যবসাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই কম লাভে পরিচালিত অনেক দোকান এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া দোকানগুলোর কর্মীদের বেতন, পণ্যে ছাড়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি কীভাবে আর্থিকভাবে টেকসই হবে—এসব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি দোকানে কেনাকাটার জন্য পরিচয়পত্র লাগবে—এমন দাবি ছড়ালেও নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোকানে কেনাকাটার জন্য কোনো পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হবে না।
মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক শহরে পাঁচটি সরকারি মুদি দোকান চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে সাশ্রয়ী দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যকারিতা—এই দুই বিষয়ই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন








