বাংলাভাষী মুসলিমসহ সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বাড়িয়েছে ভারত

ভারতে দলিত, তফসিলি জাতি, বাংলাভাষী মুসলিম, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (ইউএনসিইআরডি)।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে প্রকাশিত সংস্থাটির পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই জাতিসংঘে ভারতের মিশন এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে। ভারতের পক্ষ থেকে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষপূর্ণ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
জাতিসংঘের এই কমিটিতে ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তারা মূলত বর্ণবৈষম্য দূরীকরণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করেন।
বিজ্ঞাপন
ইউএনসিইআরডির পর্যালোচনায় ২০১৭ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনা এবং ২০২৫ সালে কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর তৈরি হওয়া সামাজিক পরিস্থিতির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার পর রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আটক, তল্লাশি ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া জাতিগত বিদ্বেষ থেকে সহিংসতা, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয়তা বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং সম্মিলিতভাবে বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সন্দেহভাজন নথিবিহীন অভিবাসীদের পরিচয় যাচাইয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। এর পর দেশটির কয়েকটি রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিমদের নাগরিকত্বের প্রমাণ চেয়ে হয়রানি এবং আইনবহির্ভূতভাবে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের পর্যালোচনার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা, বহুত্ববাদ ও আইনি কাঠামো সম্পর্কে জাতিসংঘের বৈশ্বিক পর্যালোচনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
একই সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় প্রতিনিধিদল প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ঢালাও ও ভিত্তিহীন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: এএফপি








