Logo

আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: নেতানিয়াহু

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:২৮
আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

কাতারে ইসরায়েলি হামলার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে দম্ভ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, কাতার ইসরায়েলের জন্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ একটি দেশ এবং গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের নীতিতে দেশটি কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাতারে হামলার প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি কাতারে হামলা চালিয়েছেন এবং যুদ্ধের সময় সেখানে বোমাবর্ষণও করেছেন। একই সঙ্গে কাতারও তাকে আক্রমণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্ণ হবে। ২০২৫ সালের ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামাস নেতাদের একটি বৈঠক চলার সময় হামলাটি চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল।

হামলার পর কাতার এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়েও নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশের ভিত্তিতেই মানবিক সহায়তার জন্য এসব অর্থ গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

নেতানিয়াহুর ভাষ্য, গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের মধ্যে কাতারের দেওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র প্রায় ২ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কাতারের অর্থ হামাসের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। কাতার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, তাদের দেওয়া সব সহায়তাই গাজার সাধারণ মানুষের জন্য এবং অর্থ সহায়তার পুরো প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ ও কঠোর নজরদারির আওতায়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এর আগে হামাসকে কাতারের অর্থায়নের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এসব অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও অবগত ছিল।

এদিকে ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। গাজা যুদ্ধ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত—এসব বিষয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরালো করতে নেতানিয়াহু বারবার আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD