বিশ্বনেতাদের চোখ এড়াতে নয়াদিল্লিতে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো বস্তি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের যাতায়াতের পথ ও আশপাশের এলাকা সাজানো হয়েছে নতুনভাবে। এরই অংশ হিসেবে বিদেশি অতিথিদের চোখে যাতে বস্তি না পড়ে, সে জন্য ‘বসন্ত বিহার কুলি ক্যাম্প’ নামের একটি বস্তি কাপড় দিয়ে আড়াল করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওয়ানইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের সময়ও একই বস্তি কাপড়ের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের যাতায়াতের পথের কাছেই বস্তিটির অবস্থান। অতিথিদের আগমনের আগে নয়াদিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই বস্তিটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে নয়াদিল্লির সৌন্দর্য তুলে ধরা হচ্ছে, নাকি শহরের দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞাপন
বস্তিটির কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের সময়ও সেখানে বড় কাপড়ের পর্দা টাঙিয়ে পুরো এলাকা আড়াল করা হয়েছিল। এতে একদিকে বস্তিটি বাইরের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়, অন্যদিকে ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এবারও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ায় বস্তিবাসীদের কেউ কেউ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অতিথিদের কাছ থেকে দিল্লির দারিদ্র্যের চিত্র লুকানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ওয়ানইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বস্তিটির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুরি ও ছোটখাটো ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের চলাচল সামান্য সীমিত হলেও তা দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এই উদ্যোগের পক্ষে মতও রয়েছে। তাদের বক্তব্য, ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় বিশ্বের নজর যখন নয়াদিল্লির দিকে থাকে, তখন শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করা স্বাভাবিক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বৈঠকের সময় রাজধানীকে নিরাপদ ও সুন্দর রাখাও প্রয়োজন।








