পরীক্ষায় এআই ব্যবহারে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) বোম্বের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ হোস্টেল কক্ষে মারা গেছেন। তিনি এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পোওয়াই ক্যাম্পাসে গত সাত মাসের মধ্যে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার আগে পরীক্ষার হলে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় সাহিলকে একজন পরিদর্শক দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গোপনে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন আপলোড করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই টুলের মাধ্যমে সমাধান খুঁজছিলেন। পরে তাকে বিভাগীয় প্রধানের দপ্তরে ডেকে নেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনায় সাহিলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোর্স শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান তাকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং এ কারণে তার শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে আশ্বস্ত করেন। ওই আলোচনার পর তিনি হোস্টেল কক্ষে ফিরে যান। পরে সন্ধ্যায় তাকে কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এক বিবৃতিতে আইআইটি বোম্বে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘একজন শিক্ষার্থীর এমন প্রয়াণে পুরো প্রতিষ্ঠান স্তব্ধ। শোকগ্রস্ত সহপাঠী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।’
সাহিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পোওয়াই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গভীর রাতে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করছে না।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সাহিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের মৌখিক হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন শাস্তি হলে তাকে হোস্টেল ছাড়তে হতো এবং চার বছরের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি শেষ করতে পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারত। এই সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে তৈরি মানসিক চাপ ও আতঙ্ক থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে সহপাঠীরা অভিযোগ করেছেন। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজ ক্যাম্পাসে আরেকজন সহপাঠীর লাশ দেখতে হলো। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। চলতি বছরেই এ ধরনের চারটি ঘটনা ঘটল, যার দুটি গত দুই মাসের মধ্যে। একের পর এক কেন এমন ট্র্যাজেডি ঘটছে, তার কোনো সদুত্তর নেই।’
ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দত্তাত্রয় নালওয়াড়ে জানান, ঘটনার সামগ্রিক তদন্ত চলছে। শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে তৈরি অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতির ওপর পুলিশ নজর রাখছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইআইটি বোম্বের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী হোস্টেলে আত্মহত্যা করেন। পরে জুলাইয়ে নতুন সেমিস্টার শুরুর সময় ২০ বছর বয়সী আরেক বিটেক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে।








