এআইয়ের ভয়ে চাকরি ছাড়লেন গুগলের দুই গবেষক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি এবং এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়েছেন গুগল ডিপমাইন্ডের দুই গবেষক। তাদের একজন বিলাল চুঘতাই বলেছেন, এআই যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চুঘতাই জানান, তিনি গুগল ডিপমাইন্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন। সেখানে তিনি এজিআই (Artificial General Intelligence) সেফটি ও অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এআই সিস্টেম যাতে মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ না করে, অ্যালাইনমেন্ট গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য সেটিই।
চুঘতাই নিজের বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক বছরে এআইয়ের সক্ষমতা যে গতিতে বেড়েছে, তা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। তার আশঙ্কা, কয়েক বছরের মধ্যে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এমন সুপারইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম তৈরি করতে পারে, যেগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে এগুলো তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও আশঙ্কা; নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে এগুলো প্রতিষ্ঠিত নয়।
এআইয়ের গতি নিয়ে কেন উদ্বেগ
বিজ্ঞাপন
চুঘতাইয়ের মূল প্রশ্ন হলো, এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্ট গবেষণা এগোচ্ছে কি না। তার মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতি অত্যন্ত দ্রুত হলেও এআইকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য রাখার পদ্ধতি এখনো সেই গতিতে পরিণত হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি সাম্প্রতিক কিছু এআই এজেন্টের আচরণকেও উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে স্বায়ত্তশাসিত এআই সিস্টেম জটিল কাজ সম্পন্ন করতে এবং ডিজিটাল পরিবেশে এমন কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হচ্ছে, যা নিরাপত্তা গবেষকদের নতুন করে সতর্ক করেছে।
একই টিমের আরেক গবেষকের পদত্যাগ
চুঘতাইয়ের পদত্যাগের আগে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন গবেষকও প্রতিষ্ঠান ছাড়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। এর ফলে উন্নত এআই তৈরির পাশাপাশি নিরাপত্তা গবেষণার গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের পদত্যাগকে এআইয়ের অস্তিত্বগত ঝুঁকির প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে গবেষকদের প্রকাশ্য সতর্কতা উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা, অ্যালাইনমেন্ট এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে।
এআই কি সত্যিই মানবজাতির জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি?
এ প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো নেই। এআই সেফটি গবেষকদের একাংশ মনে করেন, ভবিষ্যতে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ও স্বায়ত্তশাসিত সিস্টেম তৈরি হলে সেগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা গবেষকদের মধ্যেও সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা ও সময়সীমা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অস্তিত্বগত ঝুঁকির পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে তাৎক্ষণিক বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুল তথ্য ছড়ানো, নজরদারি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান
এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোডি উন্নত এআই মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি থামানো নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য পর্যাপ্ত সময় তৈরি করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
আমোডির প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে এআই ব্যবস্থার স্বাধীন মূল্যায়ন, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরিতে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তিনি বিশেষভাবে তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা মূল্যায়নকারীদের এআই প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।
বিজ্ঞাপন
এই অবস্থানের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক। অল্টম্যান বলেছেন, উন্নত এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তিনি আমোডির সঙ্গে একমত।
নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্ন
এআই এখন গবেষণা, ব্যবসা, সফটওয়্যার উন্নয়ন ও বিভিন্ন শিল্পে দ্রুত ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফল ধরে রাখার পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
চুঘতাইয়ের পদত্যাগ এবং আমোডির সাম্প্রতিক আহ্বান দেখাচ্ছে, এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দ্রুত এগোবে—এটি প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এআই উন্নয়ন থামবে কি না, নাকি নিরাপত্তা কাঠামো জোরদার করে অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে—এ নিয়ে এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।








