Logo

এক দশকের মধ্যে সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে এআই: গবেষক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:৪৮
এক দশকের মধ্যে সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে এআই: গবেষক
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অ্যানথ্রোপিকের নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ গবেষক ইভান হাবিঙ্গার। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে ‘সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে’—এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি।

বিজ্ঞাপন

এক্স-হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে হাবিঙ্গার বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো থেকে তৈরি ঝুঁকি এখনো ‘কম’। তবে প্রযুক্তিটির দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে তিনি গভীরভাবে ‘উদ্বিগ্ন’। তাঁর মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই এআই এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করবে।

তবে ঠিক কীভাবে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি হাবিঙ্গার।

এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের ধারাবাহিক সতর্কবার্তার মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য সামনে এসেছে। এখন আলোচনা শুধু এআই ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা কতটা বড় হতে পারে, সেটিই হয়ে উঠেছে মূল প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

অতিমানবীয় এআই নিয়ে সতর্কতা

হাবিঙ্গারের মন্তব্যটি ছিল অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জেকব কক্সনের একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়া। কক্সন এর আগে ওপেনএআইয়েও কাজ করেছেন।

কক্সন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, কোনো কোম্পানিই যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তাঁর আশঙ্কা, এআই সিস্টেমগুলো খুব দ্রুত এমন অতিমানবীয় সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারে, যা যেকোনো কিছু হ্যাক করা, রাতারাতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা এবং বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের মতো কাজ করতে সক্ষম হবে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ওপেনএআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেম ওয়েন্ডি, যিনি এআই বিষয়ে জাতিসংঘকে পরামর্শ দেন, হাবিঙ্গার ও কক্সনের পোস্ট দেখে ‘হতবাক’ হয়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন।

তাঁর মতে, এসব বক্তব্যের কিছু অংশ ‘জনসংযোগ এবং বিপণন’-এর সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। কারণ অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআই তাদের বহু প্রতীক্ষিত শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশের দিকে দ্রুত এগোচ্ছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ এমন বার্তা প্রকাশ্যে দেওয়ার প্রয়োজনই বা অনুভব করবেন কেন। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, এ ধরনের বক্তব্য যদি কোম্পানিগুলোর মূল্যবোধের প্রতিফলন হয়, তাহলে তাদের সেখানে বিনিয়োগ না করাই উচিত।

নিরাপদ এআই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক চুক্তির দাবি

এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নিরাপদভাবে প্রযুক্তিটির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন বহুপক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক চিফ সেক্রেটারি এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোন্স প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে লেখা এক খোলা চিঠিতে এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সুপার ইন্টেলিজেন্সের উন্নয়নকে ঘিরে কী ধরনের চুক্তি প্রয়োজন, তা নির্ধারণে সরকারগুলোর একসঙ্গে বসে ‘সহযোগিতার’ হাত বাড়ানো উচিত।

জোন্স সতর্ক করে বলেন, সরকারগুলো যদি এসব সতর্কবার্তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেয় এবং এখনই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এআইয়ের উন্নয়নের গতি এত দ্রুত হতে পারে যে এটি আমাদের জন্য সমস্যা কি না, তা যাচাই করার আগেই বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটকে মডেল না দেওয়ার অভিযোগ

এদিকে ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রোপিক তাদের সর্বশেষ এআই মডেল যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের (এআইএসআই) কাছে প্রকাশ করেনি। এআইয়ের ঝুঁকি মূল্যায়নে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এআইএসআইয়ের কাছেও মডেলটির তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে অ্যানথ্রোপিকের কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কিংবা এআইএসআই-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

মডেলটি এআইএসআইয়ের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে ক্যাবিনেট অফিসের এক মুখপাত্র জানান, এআই মডেলগুলোকে আরও নিরাপদ করতে অ্যানথ্রোপিকসহ শিল্প খাতের অংশীদারদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

‘মানব প্রজাতি-বিলুপ্তির ঝুঁকি’ দেখছেন গবেষক

হাবিঙ্গারের পোস্টটি ১০ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমরা সত্যিই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি’ যে এআই মানুষের প্রজাতি-বিলুপ্তির ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, অ্যানথ্রোপিক এ বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কিন্তু সুপারইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে এআইকে মানুষের উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার বা ‘অ্যালাইনমেন্ট’-এর সমস্যার সমাধানে এখনো কোনো পরিকল্পনা নেই এবং সেই লক্ষ্য অনুযায়ী এগোনোও হচ্ছে না।

হাবিঙ্গার এআই অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এআই ব্যবস্থার মধ্যে মানুষের নৈতিক ধারণা ও নীতিকে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রযুক্তির আচরণকে মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা।

এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা অনেক গবেষক মনে করছেন, এই প্রচেষ্টা যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে না। চলতি গ্রীষ্মে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনাকে এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এসব ঘটনায় স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুমতি পাওয়া এআই এজেন্ট সাইবার হামলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক ও মেটা—তিন প্রতিষ্ঠানই তাদের এআই টুল ব্যবহার করে সংঘটিত হ্যাকিংয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছে।

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD