ইমরান খানকে মুক্তির আহ্বান বোরিস জনসনের

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেটার ইমরান খানের মুক্তির জন্য যুক্তরাজ্যকে দেশটির ওপর থাকা প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বোরিস জনসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায় তিনি ইমরান খানের কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার আপিল দ্রুত ও স্বাধীন আদালতে শুনানির দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত লেখায় জনসন দাবি করেন, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান পাকিস্তানের একটি কারাগারের ছোট ও স্যাঁতসেঁতে প্রকোষ্ঠে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি আছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকোষ্ঠটির আয়তন প্রায় ৬ ফুট বাই ৮ ফুট, যার মধ্যেই শৌচাগার রয়েছে। সেখানে কোনো জানালা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
জনসন আরও লেখেন, ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় একাকী রাখা হয় এবং বই, সংবাদপত্র ও দর্শনার্থীদের থেকেও দূরে রাখা হয়। দীর্ঘদিন যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় অংশ নষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব বক্তব্য জনসনের নিজস্ব বর্ণনা ও অভিযোগ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগের কথাও জনসন তার লেখায় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের চিকিৎসাসংক্রান্ত পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। জনসন দাবি করেন, এসব মামলার বেশির ভাগই পরে বাতিল বা দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির সাজা হয়েছে এবং ইমরান সেই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা প্রসঙ্গে জনসন প্রশ্ন তোলেন, মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া অর্থ থেকে ইমরান খান ও তার স্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন—এমন বিষয় পাকিস্তানি প্রসিকিউটররা স্বীকার করেছেন কি না। তার মতে, ইমরানের আপিল দ্রুত ও স্বাধীন আদালতে শুনানি হওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়—এমন দাবিও করেছেন জনসন। তবে এগুলো তার নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে এসব বক্তব্যকে উপস্থাপন করা হয়নি।
লেখায় জনসন জানান, তিনি ইমরান খানকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইমরানের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ এবং নারীদের শিক্ষার প্রসারে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও তালেবানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইমরানের অবস্থানের সঙ্গে তিনি একমত নন বলেও উল্লেখ করেন।
ইমরানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারও তুলে ধরেন জনসন। তিনি ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতাতে ইমরানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন। তার লেখায় ইমরানের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইমরান খান মুক্তি পেলে তার বিপুলসংখ্যক সমর্থক তাকে পরবর্তী নির্বাচনে সমর্থন দিতে পারেন—এমন রাজনৈতিক বিশ্লেষণও দিয়েছেন জনসন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ইমরানের জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটি জনসনের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, নিশ্চিত নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস নয়।
জনসন আরও উল্লেখ করেন, ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিমের ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে। ইমরান নিজেও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন এবং দেশটির ক্রিকেটে খেলেছেন।
তার মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় ইমরান খানের কারাবাসের বিষয়ে ব্রিটেনের আরও জোরালোভাবে অবস্থান নেওয়া উচিত। লেখার শেষাংশে তিনি ইমরান খানকে কারাগার থেকে মুক্ত করার পাশাপাশি তার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: ডেইলি মেইল








