মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ৩০ দেশে ইরানের ফ্লাইট চালু

ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও দেশটির আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তেহরান থেকে এখনো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগ এখনো সচল রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে মোট ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সেপ্টেম্বরে ইরানের পুরো বিমান চলাচল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।
বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছিলেন, কোনো দেশে ইরানের বিমান অবতরণ করলে জ্বালানি, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তেহরান এই নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিষয়টি উত্থাপনের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরান থেকে প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল করছে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪১টি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ করেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগের দুই দিনে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ফ্লাইট চলাচল করছিল। অর্থাৎ ফ্লাইট সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ইরানের ইরান এয়ার ও মাহান এয়ারের ওপর। রোববার তেহরান থেকে পরিচালিত ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মাহান এয়ারের ছিল পাঁচটি এবং ইরান এয়ারের দুটি। এর আগে দুই সংস্থাই প্রতিদিন প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন অর্থমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তেহরান বিমানবন্দরের পরিচালক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে এখনো বিমান চলাচল করছে।
চীন সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ ও একতরফা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে মাহান এয়ারের ফ্লাইটও চালু রয়েছে। রাশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গেও ইরানের বিমান যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
তুরস্কের অনুরোধে মাহান এয়ার দেশটিতে ফ্লাইট বন্ধ করলেও ইরান এয়ার এখনো প্রতিদিন ইস্তাম্বুলে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইরানের কয়েকটি ছোট বিমান সংস্থাও তুরস্কের অন্যান্য শহরে ফ্লাইট চালিয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মালয়েশিয়ায় ইরানের বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের সব ফ্লাইট ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ স্থগিত করেছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।








