Logo

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে মালয়েশিয়া

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:১১
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে মালয়েশিয়া
ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের মধ্যেই মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার প্রথম ধাপে আটক কেন্দ্রগুলোতে থাকা এসব নাগরিককে জাহাজে করে মিয়ানমারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে থাকা প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে প্রায় দেড় হাজার জনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

এএফপির সাংবাদিকরা দেখেছেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের বহনকারী বেশ কয়েকটি বাস পুলিশি নিরাপত্তায় মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে মাজলিস পারবান্দারান মানজুং স্টেডিয়ামে পৌঁছেছে। সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় যাচাই ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের পাশের নৌঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর জাহাজে করে মিয়ানমারে পাঠানোর কথা রয়েছে।

ফেরত পাঠানোদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে থাকা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। ওই উদ্যোগের পর থেকেই মানবাধিকার সংগঠনগুলো সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা সামনে আসে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করার ঘটনার পর। পরে তাদের বৈধ জাতিসংঘের নথি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।

সমালোচনার মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার বিদেশে বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা জানায়। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লেইংকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানিয়েছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিলেও ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে দেশটিতে শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নেই।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা দেশটি ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গারাও সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বলে এএফপির ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব অপপ্রচার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও উসকানি বাড়াতে পারে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD