রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে: আইরিন খান

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইরিন খান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তার মতে, সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক অর্থসহায়তা কমছে এবং বিশ্বের মনোযোগও অন্যদিকে সরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার প্রয়োজন মেটাতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী সহায়তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইরিন খান বলেন, প্রথমত ১২ লাখ শরণার্থীকে সহায়তা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মতো আশ্রয়দাতা দেশের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে হবে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে।
ঘনবসতিপূর্ণ কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে রোহিঙ্গারা। মানবিক সহায়তার চাহিদার তুলনায় অর্থায়ন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইরিন খান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা প্রায় নয় বছর ধরে আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে এবং অনেক শিশু সেখানেই বেড়ে উঠছে। ১২ লাখের বেশি শরণার্থীর সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। আশ্রয়শিবিরগুলোতে বছরে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। এভাবে শরণার্থীশিবিরে নয় বছর কাটানো দীর্ঘ সময়।
আইরিন খান বলেন, এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমাধানের লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানে নিহিত। শরণার্থীরা নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী হলেও তারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরতে চান।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা তুলে ধরে আইরিন খান বলেন, জাতিসংঘের উচিত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনা। সেখানে আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশ, অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং অবশ্যই মিয়ানমারকে থাকতে হবে। পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রয়েছে কিংবা এই প্রক্রিয়ায় অর্থায়নের সক্ষমতা আছে—এমন দূরবর্তী দেশগুলোকেও যুক্ত করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চায়, যার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে তার জনগণকে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে আইরিন খান বলেন, একা জাতিসংঘের পক্ষে এ ধরনের সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব আরও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোর আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনাতেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ও রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য সংকটের মূল কারণ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।








