ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে অন্যরাও পারবে না: গালিবাফ

ইরান তেল রফতানি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশকেও তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে—যে অঞ্চলে ইরান নিজের তেল বিক্রি করতে পারবে না, সেখানে অন্য কোনো দেশও তেল বিক্রি করতে পারবে না। ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের অবকাঠামোও নিরাপদ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন গালিবাফ। ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা হলে পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো এবং সম্পদের ওপর ইরানের নজর রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। তেহরানের প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি সম্পদ ছাড় এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ইরানের দাবি, এসব শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের ওপর চাপ বা অবরোধ বাড়ানো হলে এর জবাব দেওয়া হবে।
গালিবাফ বলেন, ইরান কোনো ধরনের অবরোধ, অর্থনৈতিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। তার ভাষায়, যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত ও কঠোর।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। মঙ্গলবার রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।








