Logo

টেনেসিতে ২০০ বছর পর মৃত্যুদণ্ডের মুখে এক নারী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:২৭
টেনেসিতে ২০০ বছর পর মৃত্যুদণ্ডের মুখে এক নারী
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় দুই শতাব্দী পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। ১৯৯৫ সালের হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড ৩০ সেপ্টেম্বর কার্যকরের কথা রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে তার আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী পাইক ১৯৯৫ সালে হত্যাকাণ্ডের সময় ১৮ বছরের ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যা করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে পাইককে প্রথম-ডিগ্রি হত্যায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার কারণে। তদন্ত ও আদালতের নথি অনুযায়ী, স্লেমারের শরীরে একটি শয়তানবাদী প্রতীক খোদাই করা হয়েছিল।

শৈশবের নির্যাতনের তথ্য সামনে

বিজ্ঞাপন

পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের আবেদন করেছেন। তাদের যুক্তি, শৈশব থেকেই পাইক গুরুতর যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাও ছিল।

আইনজীবীদের দাবি, ১১ ও ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের নির্যাতন ও অবহেলার মধ্যে বড় হয়েছেন পাইক। পরে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) শনাক্ত হয়। এসব তথ্য ১৯৯৬ সালের সাজা নির্ধারণের সময় জুরির সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও দাবি তাদের।

আইনজীবীদের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। বর্তমানে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত এবং কারাগারে থাকা অন্য নারীদের সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেন।

বিজ্ঞাপন

ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান

পাইকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের দাবিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনও উদ্যোগ নেয়। তবে টেনেসির গভর্নর বিল লি তার ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গভর্নর জানিয়েছেন, তিনি মামলাটি ও ক্ষমার আবেদন পর্যালোচনা করার পর অঙ্গরাজ্যের দেওয়া সাজা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এতে হস্তক্ষেপ করবেন না।

বিজ্ঞাপন

এরপর পাইকের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন করেন। এর আগে টেনেসি সুপ্রিম কোর্টও মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের একটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা পাইকের

পাইক কখনো স্লেমার হত্যায় নিজের ভূমিকা অস্বীকার করেননি। তবে ক্ষমার আবেদনে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ছিলেন। নিজের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা এবং এর কারণে অন্যদের জীবনে যে প্রভাব পড়েছে, তা বুঝতে তার বহু বছর লেগেছে।

প্রেমিকের সাজা যাবজ্জীবন

হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। বয়সের কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি; যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়েছিল। গত বছর তার প্যারোলের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।

বিজ্ঞাপন

টেনেসিতে সর্বশেষ নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ১৮১৯ সালে

পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে টেনেসিতে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। বিভিন্ন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অঙ্গরাজ্যটিতে সর্বশেষ নারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বছর হিসেবে ১৮১৯ উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে অবশ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও নারী বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে টেনেসিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে তার শেষ মুহূর্তের আইনি আবেদনের ওপর।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD