পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধ, চীনের আকাশপথ ব্যবহারের চেষ্টা ভারতের

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের হোটান হয়ে বিকল্প আকাশপথ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারত।
বিজ্ঞাপন
ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু মঙ্গলবার জানিয়েছেন, হোটান রুট নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও জানান তিনি। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
নাইডু বলেন, ‘আমরা অন্য বিকল্পগুলো দেখছি। হোটান রুট নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। দেখা যাক আলোচনা কতটা এগোয়।’
২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশসীমা নিয়ে বিধিনিষেধ শুরু হয়। এরপর থেকে ভারতীয় উড়োজাহাজগুলোকে পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘ বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বিমানগুলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার গন্তব্যে যেতে অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি ব্যয়ের মুখে পড়ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রস্তাবিত হোটান রুটটি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় বিমানগুলো লেহ হয়ে চীনের আকাশসীমায় প্রবেশ করে হোটানের ওপর দিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে পারবে। এরপর মধ্য এশিয়ার আকাশপথ ব্যবহার করে ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে। অতিরিক্ত দূরত্বের কারণে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হোটান রুট চালু করা সহজ হবে না। ভারতীয় বিমানকে চীনের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে সমন্বয় প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত পথটি জিনজিয়াংয়ের মতো কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ভারত-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মধ্যেই হোটান রুট নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগও ধীরে ধীরে ফিরেছে। ফলে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কিছু সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে হোটান রুট কবে চালু হবে বা আদৌ চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সীমা জানায়নি ভারত সরকার। আপাতত দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছেই।








