Logo

নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালাল দক্ষিণ কোরিয়া

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:৫৫
নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালাল দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ব্লু হাউজ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দেশের প্রযুক্তিতে তৈরি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেছেন। অস্ত্রটি এখনো গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে।

পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি, গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার উপযোগী উপাদান, দিকনির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হয়েছে।

হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল সাধারণত রকেট বুস্টার বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে পৌঁছায়। এরপর এটি শব্দের গতির অন্তত পাঁচ গুণ বেগে লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হয়। মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকায় এ ধরনের অস্ত্র শনাক্ত করা এবং প্রতিহত করা তুলনামূলক কঠিন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, পরীক্ষার সময় মূল বাহক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলটি নিচের দিকে নেমে আসে। এরপর সামনে এগোনোর সময় ওপর-নিচে এবং ডানে-বাঁয়ে দিক পরিবর্তন করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।

সিউলভিত্তিক কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং সুং-পিয়োর মতে, হাইপারসনিক অস্ত্রের প্রযুক্তি উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়া উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাঁর ধারণা, সাম্প্রতিক পরীক্ষার সাফল্য সেই প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে হাইপারসনিক অস্ত্রের উন্নয়ন ও পরীক্ষা জোরদার করেছে উত্তর কোরিয়াও। বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, এ ধরনের অস্ত্রের প্রযুক্তি উন্নয়নে পিয়ংইয়ং রাশিয়ার সহায়তা পাচ্ছে। রাশিয়া ২০২৪ সাল থেকে যুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত শনিবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় একটি মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথা জানায় উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি নিচু দিয়ে উড়তে এবং প্রয়োজনে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পক্ষে এর গতিবিধি অনুসরণ করা কঠিন হয়েছে বলে দাবি পিয়ংইয়ংয়ের।

তবে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, তাদের হাতে থাকা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে উত্তর কোরিয়ার ওই ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা সম্ভব। ফলে হাইপারসনিক অস্ত্র মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে দুই পক্ষের দাবিতে পার্থক্য রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছে সিউল।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: দ্য জাপান টাইমস

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD