Logo

গাড়ির ধাক্কায় ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৪৮
গাড়ির ধাক্কায় ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নেদুম্বাসেরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে চালক ‘বাবা সামলে নেবে’ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তাঁর রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিহত তিনজন হলেন দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তাঁরা তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শিক্ষার্থী। এ সময় দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি মিনি কুপার গাড়ি তাঁদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুহাইল দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর ভাষ্য, তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তাঁর শরীরে অ্যালকোহল বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাব ছিল কি না, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পেছনে চালকের ভূমিকা এবং গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য গাড়িটির ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মিনি কুপার গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর চালকের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ। চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সুহাইলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল থেকে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে।

বিজ্ঞাপন

পরে পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, চালকের নেশাজাতীয় পদার্থ গ্রহণের বিষয়টি এবং তাঁর ওপর হামলার ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD