তুরস্কে সমুদ্রতলে মিলল বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ

তুরস্কের উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরের তলদেশে বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। তাঁদের ধারণা, জাহাজটি প্রায় ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছরের পুরোনো। অর্থাৎ, এর সময়কাল ব্রোঞ্জ যুগের শুরুর দিকের। সে সময়ই প্রাচীন মিসরে নির্মিত হচ্ছিল গ্রেট পিরামিড।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির কাঠের কাঠামো এখন আর অবশিষ্ট নেই। তবে জাহাজে বহন করা সিরামিকের পাত্রগুলো সমুদ্রের তলদেশে প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এসব পাত্রের ভেতরে থাকা কিছু পদার্থের অস্তিত্বও শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের তথ্যমতে, প্রাচীন বাণিজ্যিক জাহাজটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট। এটি ভূমধ্যসাগরে চলাচল করত। তুরস্কের আনতালিয়া প্রদেশের কেকোভা দ্বীপের উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রের নিচে একটি গর্তে জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ ও বহন করা সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।
সেখান থেকে জাহাজটির তিনটি বড় নোঙর উদ্ধার করা হয়েছে। পাথর দিয়ে তৈরি এসব নোঙরের পাশাপাশি পাওয়া গেছে ৩০টি সিরামিকের পাত্র। প্রাচীনকালে এ ধরনের পাত্রকে অ্যাম্ফোরা বলা হতো। সাধারণত পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণের কাজে এসব পাত্র ব্যবহার করা হতো।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জাহাজটির কাঠের কাঠামো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর সঠিক বয়স নির্ধারণ করা প্রত্নতত্ত্ববিদদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এ ক্ষেত্রে তাঁরা জাহাজে থাকা সিরামিকের পাত্রগুলোর ওপর নির্ভর করেন। পাত্রগুলোর আকৃতি ও গঠন বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এগুলো প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে ব্যবহৃত সিরামিকের নমুনার সঙ্গে মিলে যায়।

প্রাচীনকালে বিভিন্ন সময়ের সিরামিকের পাত্রের আকৃতি ও নির্মাণশৈলীতে পরিবর্তন আসত। ফলে এসব পাত্রের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সময়কাল নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। তুরস্কের এই জাহাজের ক্ষেত্রেও সেই পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়েছে।
তুরস্কের আকদেনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ হাকান ওনিজ বলেন, মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যে ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছরের পুরোনো যেসব সিরামিকের পাত্র পাওয়া গেছে, এই জাহাজের ধ্বংসাবশেষেও একই ধরনের পাত্র মিলেছে।
বিজ্ঞাপন
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ডুবুরিরা সমুদ্রের তলদেশ থেকে পাত্রগুলো ওপরে নিয়ে আসেন। বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় সেগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এসব নিদর্শন প্রাচীনকালের সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. কারিন সোয়াদা পাত্রগুলোর ভেতরে থাকা পদার্থের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পাত্রগুলোর ভেতরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আঠালো পদার্থের অস্তিত্ব ছিল। এত বেশি পরিমাণে এ ধরনের পদার্থ দেখতে পেয়ে তিনি অবাক হয়েছেন।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের এই আবিষ্কার প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নৌ-বাণিজ্য, পণ্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্রপথে যাতায়াতের ইতিহাস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কাঠের কাঠামো হারিয়ে গেলেও সিরামিকের পাত্র ও পাথরের নোঙরের মতো নিদর্শন কীভাবে হাজার হাজার বছর ধরে প্রাচীন জাহাজের ইতিহাস সংরক্ষণ করে রেখেছে, তা এই আবিষ্কারে স্পষ্ট হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: বিবিসি








