Logo

হরমুজে ডুবল পণ্যবাহী জাহাজ, পানিতে ভাসছে আইফোন ও সুগন্ধি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:২৫
হরমুজে ডুবল পণ্যবাহী জাহাজ, পানিতে ভাসছে আইফোন ও সুগন্ধি
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সাগরের পানিতে ভাসতে দেখা গেছে আইফোনের বাক্স ও দামি সুগন্ধির প্যাকেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছোট নৌকায় থাকা লোকজনকে পানিতে ভাসমান এসব পণ্য সংগ্রহ করতেও দেখা গেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে টিভি।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ দুবাই থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় গত বুধবার হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে সেটি ডুবে যায়।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি জানিয়েছে, জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানিয়েছে, জাহাজটিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার ছিল। এসব কনটেইনারে দামি সুগন্ধি ও আইফোনও ছিল। জাহাজডুবির পর পণ্যগুলো সাগরের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

জাহাজডুবির কারণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য

জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে, তা নিয়ে ইরান ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় নৌমাইনে আঘাত পেয়ে জাহাজটি ডুবে যায়।

অন্যদিকে, সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। ফলে জাহাজডুবির প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর ওমান উপসাগরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ছোট নৌযানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, নৌযানটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল এবং সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছিল। হামলার আগে নৌযানটির নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে নৌযানটি ধ্বংস করা হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ‘কেপ দাও’ নামের অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও ডুবে গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর জাহাজটি ডুবে যায়। ওই হামলায় একজন নাবিক নিহত হন। অন্য নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

৪৮ ঘণ্টায় বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত পাঁচটি হামলা

বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত পাঁচটি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ড্রোন হামলাও রয়েছে।

গত ১০ দিনে এ অঞ্চলে জাহাজে হামলার তীব্রতা বেড়েছে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধ ও গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা হামলা জোরদার করছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার চেষ্টা করছে ইরান। ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটি জলপথটিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জলপথটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে তেহরান। তেলের দাম উঁচু রাখা এবং আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করাও এসব পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, রয়টার্স ও দ্য সান

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD