Logo

আসামে ১১০০ মুসলিম বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভেঙে ফেলা হয়েছে মসজিদ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:০৫
আসামে ১১০০ মুসলিম বাড়িঘর উচ্ছেদ, ভেঙে ফেলা হয়েছে মসজিদ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্য আসামে দুই দিনে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ রাজ্যের চারটি এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে ১০টিরও বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্ক্রল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ অক্টোবর নগাঁও জেলার লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৬০০টিরও বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। এর আগের দিন নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় আরও ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। আসাম বন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রশাসনের দাবি, পরিবারগুলো বনভূমি দখল করে বসবাস করছিল। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদের শিকার অধিকাংশ মানুষ বাংলাভাষী মুসলিম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, গোলাঘাটে ৫৯টি এবং হোজাইয়ে ১৫২টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। পরদিন লুতুমারি এলাকায় আরও ৬০০টির বেশি পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

লুতুমারি এলাকার বাসিন্দারা কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা অবৈধভাবে জমি দখল করে বসবাস করছিলেন না; বরং সরকারই তাঁদের সেখানে পুনর্বাসিত করেছিল।

রোববার নিজের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর লুতুমারির ৪৪ বছর বয়সী বাসিন্দা আবদুন নূর বলেন, ‘১৯৭৪ সালে সরকার আমাদের এখানে পুনর্বাসিত করেছিল। আমরা মূলত কাছের জুরিয়া শহরের বাসিন্দা। আমাদের পূর্বপুরুষেরা ভূমিহীন ছিলেন বলে সরকার আমাদের এখানে বসতি গড়ে দিয়েছিল। সব মিলিয়ে ৩০০টি ভূমিহীন পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্টে মামলা করেছিলাম। কিন্তু আদালত আমাদের কোনো প্রতিকার দেননি।’

আবদুন নূরের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানে ১০টিরও বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদের বয়স ৫০ বছরেরও বেশি। তিনি বলেন, ‘আমরা বন বিভাগে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতাম। এ কারণেই অনেককে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল।’

গত জুনে অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপলস আসাম সরকারকে লুতুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সংগঠনটির যুক্তি ছিল, ওই এলাকার চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে চালু হওয়া ‘টংগিয়া’ বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় সেখানে বসতি গড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই তাঁদের সাধারণ বনভূমি দখলকারী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

টংগিয়া পদ্ধতিতে বনাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী বন বিভাগের অধীনে কাজ করার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান গাছের সঙ্গে খাদ্যশস্যও চাষ করত। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশরা এ পদ্ধতি চালু করে। পরে আসামের কিছু এলাকাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।

লুতুমারি লংজাপ বনাঞ্চলের চারটি গ্রাম হলো কন্দর্প লংজাপ, পদুমনি, হাতিজুর ও ৯ নম্বর খেরোনি।

বিজ্ঞাপন

দ্য স্ক্রল-এর সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, আসামে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) গত ১০ বছরের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাজ্যের রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব তৈরি করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই মুসলিম।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD