দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করতে সীমান্তে মাইক বসাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তজুড়ে বিশালাকার লাউডস্পিকার বা মাইক পুনরায় চালু এবং নতুন সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। একই সঙ্গে সিউলকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ পুরো সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার সক্রিয় করা হবে।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের সেনা দুর্গ ও প্রতিরোধব্যবস্থা পরিদর্শন করেন তিনি।
কিম ইয়ো জং বলেন, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান নিয়েছে। তাঁর দাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলক বার্তা সম্প্রচার করেছে এবং একাধিক স্থানে ফাঁকা গুলি বা ‘ওয়ার্নিং শট’ ছুড়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ফাঁকা গুলির বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সতর্কতামূলক গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশটির বাহিনীকে ‘বিনা দ্বিধায় ও নির্মমভাবে নির্মূল’ করা হবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া তাদের পদক্ষেপকে ‘আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক’ বলে দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ কমান্ডের (ইউএনসি) সহায়তায় অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) নিয়ন্ত্রণ জোরদারে সিউলের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে কিম ইয়ো জংয়ের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে পদক্ষেপগুলো কার্যকর হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া হুমকি বাস্তবায়ন করলে সিউলও ‘সমানুপাতিক ও উপযুক্ত জবাব’ দেবে।
কিম ইয়ো জংয়ের এই হুঁশিয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্তে দুই দেশের উত্তেজনা বেড়েছে।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ার পর থেকে ডিএমজেড দুই দেশকে পৃথক করে রেখেছে। ঐতিহাসিকভাবে, উভয় দেশই সীমান্তে প্রচার চালানোর জন্য বড় আকারের লাউডস্পিকার ব্যবহার করেছে।
বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল মনে করেন, কিম ইয়ো জংয়ের হুমকির অর্থ এই নয় যে লাউডস্পিকারগুলো অবিলম্বে চালু করা হবে। তবে তাঁর মতে, এই ঘোষণা প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের প্রশাসনের সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বিধা তৈরি করেছে।








