Logo

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সামরিক সহায়তা চাইলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৪৯
দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সামরিক সহায়তা চাইলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের এই অনুরোধ পর্যালোচনা করছে সিউল। এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জলদস্যুবিরোধী নৌবাহিনীর কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ পর্যন্ত সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদপত্র ‘কিউংহিয়াং শিনমুন’-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া চেওংহে ইউনিটের কার্যক্রমের আওতা বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

২০০৯ সালে এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনের লক্ষ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল চেওংহে ইউনিট। এবার এই বাহিনীর কার্যক্রম ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। ওমান উপসাগর হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের প্রশাসন চেওংহে ইউনিটের মিশনের মেয়াদ বাড়াতে পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে বাহিনীটির কার্যক্রমের অনুমোদিত মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে একটি ফ্রিগেট পাঠানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইউনিটটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে পার্লামেন্টে প্রস্তাব দেওয়া হবে কি না, তা পর্যালোচনা করছে সরকার। তবে মিশনের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এডেন উপসাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় সেখানে জলদস্যুদের তৎপরতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়ার বিবেচনায় রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম ওয়াইটিএনের তথ্য অনুযায়ী, চেওংহে ইউনিটে বর্তমানে ৪ হাজার ৪০০ টন ওজনের একটি ডেস্ট্রয়ার, একটি সামুদ্রিক হেলিকপ্টার, সর্বোচ্চ তিনটি দ্রুতগামী রিজিড-হাল ইনফ্ল্যাটেবল বোট এবং প্রায় ৩০০ সামরিক সদস্য রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি সিউলের সহায়তাকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে সমালোচনা করেন। একই সময়ে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসরও কমানো হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ এশীয় মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা সম্পদ পাঠানো হবে না, যা তাঁর দেশকে সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তবে ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা রক্ষায় সিউল আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে কি না, সে বিষয়ে পর্যালোচনা চলার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের অনুরোধের পর দক্ষিণ কোরিয়া একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় ভূমিকা বাড়ানোর সম্ভাবনা যাচাই করছে, অন্যদিকে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখছে। এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন পার্লামেন্টের সম্ভাব্য পদক্ষেপ ও পরবর্তী নীতিগত ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD