উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যা ও নরমাংস ভক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার

উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যা এবং তাদের মাংস খাওয়ার অভিযোগে মুজুরিজি মোজেস নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা।
তার দাবি, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির মাসাকা, ইবান্দা ও কাজো জেলায় এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মোজেসকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ধারাবাহিক খুনি ও নরমাংসভোজী হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্থানীয় তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বাড়িতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ঘটনায় মোজেসের কথিত সহযোগীরা পেন্টেকোস্টাল যাজক স্টিভেন মুগাম্বের বাড়িতে গর্ত করে প্রবেশ করে। পরে বাড়ির ভেতরে থাকা সবাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া, সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর আগে একাধিকবার আটক হলেও তিনি পালিয়ে যান অথবা বিতর্কিত পরিস্থিতিতে মুক্তি পান।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের বাসস্থান থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে কী ধরনের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বর্তমানে তদন্তকারীরা ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে মোজেসের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংঘটিত বলে দাবি করা ঘটনাগুলো তদন্তের আওতায় আসায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ৩৮ জনকে হত্যা ও নরমাংসভোজী হওয়ার অভিযোগসহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া বাকি। তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রমাণের বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।








