ইসরায়েলের নির্বাচনে রেকর্ড আসনের পথে আরব দল, চাপে নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে এমন আভাস পাওয়া গেছে। ১২০ আসনের নেসেটে এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে তা হবে আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্য। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটদানের হারও কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, আরব নাগরিকদের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম জোট সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। ভোট গণনার এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পন্ন হওয়ার পর জয়েন্ট লিস্টের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৯ শতাংশের বেশি। তবে গণনা শেষ না হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফলে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের বিপরীতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলোর আসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রা’আম পার্টির নেতা মানসুর আব্বাস আশা করছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাবে। চ্যানেল ১২-কে তিনি বলেন, বর্তমান আসনসংখ্যার হিসাবে সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। নির্বাচনের আগে ও পরেও দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবির তাঁর দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে নেসেটে রা’আমের পাঁচটি আসন রয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে ক্ষমতায় থাকা জোট সরকারেও অংশ নিয়েছিল দলটি।
ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস আলজাজিরাকে বলেন, আরব দলগুলোকে বাইরে রেখে সরকার গঠন করা গাদি আইজেনকোটের মতো বিরোধী নেতাদের জন্য কঠিন হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনি প্রচারের সময় কয়েকটি দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন না পেলে তাদের সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পিঙ্কাসের মতে, আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা সম্ভব নয়। কেবল নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হলেই তাদের সমর্থন চাওয়ার রাজনীতিরও মূল্য দিতে হবে।
তবে আরব দলগুলোর দাবি এবং ইহুদি নেতৃত্বাধীন জোটের নীতিগত অবস্থানের মধ্যে বিরোধ দেখা দিতে পারে। এতে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আলজাজিরা








