এবার পুরোনো মিত্র অতি-গোঁড়া ইহুদি দলের সমর্থন হারালেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র অতি-গোঁড়া ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবার তাঁর প্রতি সমর্থন জানায়নি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে দলটির প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন বা সুপারিশ করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে নতুন সরকার গঠনের প্রশ্নে নেতানিয়াহু গুরুত্বপূর্ণ এক সমর্থন হারালেন।
বিজ্ঞাপন
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার পার্টির গাদি আইজেনকোট প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারেন।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কোনো দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে জোট নিয়ে আলোচনা চলছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ করছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের প্রতিনিধিরা। তবে তাঁরা নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট—কারও পক্ষেই সমর্থন ঘোষণা করেননি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে ইসরায়েলের গত পাঁচটি নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল দলটি। এবার তাদের অবস্থানের পরিবর্তন দেশটির সরকার গঠনের সমীকরণে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সর্বশেষ নির্বাচনে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম সাতটি আসন পেয়েছে। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসনসংখ্যা ১২০। ফলে সরকার গঠনে দলটির সাতটি আসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এবার কাউকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করার পথে হাঁটছে না দলটি।
ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম মূলত অতি-গোঁড়া আশকেনাজি ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করে। এই সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষদের শিকড় ইউরোপে। ইসরায়েলে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিধান থেকে নিজেদের অনুসারীদের অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে দলটি। তবে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তাদেরও সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।








