Logo

এবার নেতানিয়াহুর সঙ্গ ছাড়ল মিত্ররা, সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকট

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬:৫১
এবার নেতানিয়াহুর সঙ্গ ছাড়ল মিত্ররা, সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকট
ছবি : জনবাণী গ্রাফিক্স

ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের মিত্র অতি-গোঁড়া ইহুদিদের রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পাশে থাকার ঘোষণা দেয়নি। নতুন সরকার গঠনে নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দলটি। এতে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে দলটি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি।

ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম আগের পাঁচটি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে এবার দলটি প্রেসিডেন্টের কাছে নতুন সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী নেতা আইজেনকট—কারও নামই প্রস্তাব করেনি।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সাতটি আসন পাওয়া দলটি কোনো আইনপ্রণেতাকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম মূলত ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত আশকেনাজি অতি-গোঁড়া ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করে। একই ধরনের আরেকটি রাজনৈতিক দল শাস প্রতিনিধিত্ব করে সেফারদি ইহুদিদের, যাদের অধিকাংশের পূর্বপুরুষের শিকড় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ ও সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই দুই দলের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দাবিতে দল দুটি নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়ে আসছে। নেতানিয়াহু অব্যাহতি বহাল রাখলেও সেটিকে স্থায়ী করতে আইন প্রণয়ন করেননি।

এদিকে গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে ইসরায়েলের সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্যদের বারবার সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের আইনপ্রণেতা আইজ্যাক পিনড্রাস বলেন, পরবর্তী যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, আমাদের প্রথম কাজ হবে তোরাহর শিক্ষার্থীদের অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি সমাধান করা।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট মধ্যপন্থি ও মধ্য-ডানপন্থি দলগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিরোধিতা করছেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের এই অবস্থানের পেছনে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ তৈরির কৌশল থাকতে পারে। এর মাধ্যমে দলটি বোঝাতে চাইছে, তাদের সমর্থনকে নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে নেতানিয়াহু সরকার গঠনে সফল হলে দলটি শেষ পর্যন্ত তাঁর মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দিনের পরবর্তী সময়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট হারজগের। আলোচনা শেষে তিনি একজন আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। সাধারণত কোন নেতা সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেয়েছেন, তা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকট।

সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতা প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন সম্ভব না হলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নতুন পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩। এই হিসাবের মধ্যে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি আসনও অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ইসরায়েলের আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯-এ। এসব দলের সমর্থন পেলে আইজেনকট সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যেতে পারেন। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে গেলে তাঁর নিজস্ব জোটের কিছু সমর্থন হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD