Logo

নেতানিয়াহুর কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল নির্বাচন কমিশন

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৪:০২
নেতানিয়াহুর কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল নির্বাচন কমিশন
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তোলা কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন নির্বাচনের ফলাফলে আরব দলগুলো সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট এবং প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন ‘চেঞ্জ’ জোট—কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ইসরায়েলের দুটি আরব রাজনৈতিক দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম। নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে দল দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ করে আসছিলেন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের দিন নগদ অর্থসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এবং আরব আইনপ্রণেতাদের কাতার থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়েও তিনি ইঙ্গিত করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বুধবার ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর দেশটির ৯ হাজার ৬৯টি ভোটকেন্দ্রে নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। পর্যালোচনা শেষে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ভোটারদের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া সব অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারা জানান, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হবে না। এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের প্রধান আরব দলগুলোর কয়েকজন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অ্যাটর্নি জেনারেলের এই অবস্থানের পর তাঁর কঠোর সমালোচনা করেছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল তদন্তে বাধা দিচ্ছেন এবং বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির গুরুতর ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইসেনকোট লিকুদ পার্টির এমন অবস্থানকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। মধ্যপন্থী ও মধ্য-ডানপন্থী দলগুলোকে একত্র করে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটাতে চাইছেন তিনি।

এর আগে নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাতে না জড়ানোর সতর্কবার্তাও দিয়েছিলেন আইসেনকোট। তাঁর আশঙ্কা, এমন যুদ্ধ শুরু হলে নেতানিয়াহু ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে নতুন নির্বাচন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময়ও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: এএফপি, জিও নিউজ

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD