যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের কাছে নেতানিয়াহু এখন বিষাক্ত ব্যক্তি: লাপিদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থী আইনপ্রণেতাদের কাছেও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এখন ‘বিষাক্ত’ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু ও তার সরকারের নীতির কারণে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমর্থন হারাচ্ছে। এমনকি দেশটিতে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার পক্ষেও সমর্থন বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন লাপিদ।
তিনি লেখেন, “ইসরায়েল এমন অনেক আইনপ্রণেতার সমর্থন হারাচ্ছে—যারা ইসরায়েলকে এখনও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে মনে করেন, কিন্তু নেতানিয়াহু ও তার সরকারের নীতির বিরোধিতা করেন।”
লাপিদের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ সদস্যের মধ্যে প্রায় ২৫ জন এবং সিনেটের ১০ শতাংশেরও কম সদস্য ইসরায়েলের কট্টর বিরোধী। তবে তার মতে, উদ্বেগের বিষয় হলো এই গোষ্ঠীর বাইরেও ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে আইনপ্রণেতাদের সমর্থন বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দুই বছর আগে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ১১ জন সিনেটর। এক বছর আগে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ জনে। আর চলতি বছরের এপ্রিলে তা ৪০ জনে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
লাপিদের ভাষায়, “তারা বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরোধিতা করেন, এমন একটি সরকারের বিরোধিতা করেন যা তাদের বোধগম্য নয় এবং সর্বোপরি, তারা নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করেন। তাদের কাছে এখন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো কিছুই বিষাক্ত।”
নেতানিয়াহুর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন লাপিদ। তার মতে, ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরাননীতি বিরোধিতা করে নেতানিয়াহু মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই নীতিগত বিচ্যুতির সূচনা হয়।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লাপিদ বলেন, “ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, তারা যেন ওয়াশিংটনে প্রথম সফরের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে আইন প্রণয়ন ও সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিতে দলটির প্রভাব বাড়বে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় আসতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি








