Logo

কাশ্মীরের ‘লাল সোনা’ জাফরান চাষে ধস, হারাচ্ছে শতাব্দীর ঐতিহ্য

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯:৫৮
কাশ্মীরের ‘লাল সোনা’ জাফরান চাষে ধস, হারাচ্ছে শতাব্দীর ঐতিহ্য
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলাগুলোর মধ্যে অন্যতম জাফরান। গাঢ় লাল রং ও স্বতন্ত্র সুগন্ধের কারণে এটি পরিচিত ‘লাল সোনা’ নামে। ভারতের কাশ্মীরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চাষ হয়ে আসা এই মূল্যবান মসলা এখন নানা সংকটের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং ভেজাল পণ্যের দাপটে ক্রমেই কমছে জাফরানের উৎপাদন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে কাশ্মীরের জাফরান চাষের এই সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের কাশ্মীরের পাম্পোর অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবেই জাফরান চাষের জন্য সুপরিচিত। কয়েক শতাব্দী ধরে এখানকার কৃষকেরা এই মসলা উৎপাদন করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে কাশ্মীর ও জম্মুতে জাফরানের উৎপাদন ছিল ৮ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬ টনে। অর্থাৎ এক দশকের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চাষিদের ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন এসেছে। জাফরান চাষের জন্য আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে বৃষ্টি কম হলে ফুলের উৎপাদন ব্যাহত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ফলনে।

প্রাকৃতিক সমস্যার পাশাপাশি বাড়ছে মানুষের তৈরি সংকটও। সড়ক নির্মাণ, আবাসন প্রকল্প ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠায় জাফরান চাষের উপযোগী জমি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এর ওপর ইঁদুর ও সজারুর আক্রমণে মাটির নিচে থাকা জাফরানের কন্দ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি কমছে আয়ের সুযোগ।

বিজ্ঞাপন

জাফরান বাজারেও দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। ইরান থেকে আমদানি করা জাফরান অনেক সময় কাশ্মীরি পণ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জাফরানের সঙ্গে অন্য মসলা ও ক্ষতিকর রং মেশানোর ঘটনাও সামনে আসছে। এতে আসল কাশ্মীরি জাফরানের পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় চাষিরা ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

জাফরান উৎপাদন অত্যন্ত শ্রমসাধ্য একটি প্রক্রিয়া। মাত্র এক কেজি জাফরান সংগ্রহ করতে প্রয়োজন হয় হাজার হাজার ফুল। প্রতিটি ফুল থেকে হাতে তুলে নিতে হয় মাত্র তিনটি লাল গর্ভদণ্ড। এরপর সেগুলো শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয় মূল্যবান এই মসলা। উৎপাদনের জটিলতা ও বিপুল শ্রমের প্রয়োজনীয়তার কারণেই বিশ্ববাজারে জাফরানের দাম এত বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সেচব্যবস্থা চালু, কৃষিজমি সংরক্ষণ, উন্নত জাতের কন্দ ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কাশ্মীরের চাষিদের আশঙ্কা, বর্তমান সংকট অব্যাহত থাকলে হারিয়ে যেতে পারে শুধু বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান মসলার উৎপাদনই নয়, বরং কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা অঞ্চলের কৃষি ঐতিহ্যও।

সূত্র: বিবিসি

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD