Logo

ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, দায় নিতে নারাজ ইসরায়েল

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭:৫৪
ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, দায় নিতে নারাজ ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ছিল, ইসরায়েলের নয়—এমন দাবি করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। তাঁর বক্তব্য, ওয়াশিংটন নিজেই ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ইসরায়েল কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন জানিয়েছে। তাই যুদ্ধের সব দায় ইসরায়েলের ওপর চাপানো যুক্তিসংগত নয়।

বিজ্ঞাপন

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। যুদ্ধের ব্যয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে দুই মিত্র দেশের মধ্যে দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের দায় যুক্তরাষ্ট্রের বলে মন্তব্য করলেন ড্যানন।

গত বুধবার (৪ নভেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব ক্রমশ জোরালো হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইসরায়েলের এই কূটনীতিক।

ড্যাননের আশঙ্কা, ইসরায়েলের বিরোধিতাকারী রাজনীতিকদের একটি সোচ্চার সংখ্যালঘু গোষ্ঠী মার্কিন কংগ্রেসের আলোচনায় ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে। এতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্ক ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ড্যানন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে মিশিগান থেকে নির্বাচিত আইনপ্রণেতা আবদুল আল-সায়েদেরও সমালোচনা করেন তিনি। নির্বাচনি প্রচারের সময় ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছিলেন আল-সায়েদ। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও তিনি ইসরায়েলের বিরোধিতা করতেন বলে দাবি করেন ড্যানন।

এদিকে, ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার প্রসঙ্গও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। ড্যাননের ধারণা, ভবিষ্যতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় যৌথ বিনিয়োগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ দেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উৎপাদনে দুই দেশের অংশীদারত্ব উভয়ের জন্যই লাভজনক।

অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির দায় ইসরায়েলের ওপর চাপানোর বিরোধিতা করেন ড্যানন। তাঁর বক্তব্য, ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়াশিংটন। ইসরায়েল শুধু সেই অভিযানে সমর্থন দিয়েছিল। ফলে যুদ্ধের সব নেতিবাচক প্রভাবের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা উচিত নয়।

তবে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তি করলে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, সে ক্ষেত্রে নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান ড্যানন।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে অনেক ভোটার রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন।

ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটারদের একটি বড় অংশ যুদ্ধের অবসান, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তন দেখতে চায়। ফলে ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD