যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের একের পর এক ঐতিহাসিক জয়

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জাতীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন মুসলিম আমেরিকান প্রার্থীরা। বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে অন্তত ৩৬টি আসনে জয় এসেছে তাদের ঝুলিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা, আবদুল আল-সায়েদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়া।
বিজ্ঞাপন
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস, অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মুসলিম আমেরিকানরা। নির্বাচনের ফলাফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাদের জয় নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সায়েদ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।
নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আদম হামাওয়ি। অঙ্গরাজ্যটির ইতিহাসে কংগ্রেসে প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের।
বিজ্ঞাপন
এবারের নির্বাচনেও প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন মুসলিম সদস্য ইলহান ওমর, রাশিদা তালাইব, আন্দ্রে কারসন ও লতিফা সিমন। তাদের পুনর্নির্বাচিত হওয়া মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও একাধিক মুসলিম প্রার্থী জয় পেয়েছেন। জর্জিয়ার স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন রুয়া রোমান। তিনি অঙ্গরাজ্যটির সিনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
এ ছাড়া ইলিনয়ে নাবিলা সাইয়েদ ও আবদেলনাসের রশিদ, কানেকটিকাটে মরিয়ম খান ও সৌদ আনোয়ার এবং মিনেসোটায় ওমর ফাতেহ ও জয়নব মোহাম্মদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। নিউইয়র্ক, ওহাইও, ওরেগন, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও টেক্সাসের আইনসভা নির্বাচনেও মুসলিম প্রার্থীরা সফল হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অর্জন। টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টির বিচারক নির্বাচিত হয়েছেন লেটিসিয়া প্লামার। এর মাধ্যমে তিনি অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে বড় কাউন্টির নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম মুসলিম ব্যক্তি হয়েছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এবং এর সহযোগী সংগঠন সিএআইআর অ্যাকশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে ১৬০ জনের বেশি মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৬ জনের বিজয় মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একটি জাতীয় নির্বাচনি জরিপে উঠে এসেছে, গাজা ও ইরানের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং মুসলিমবিদ্বেষের বিস্তার মুসলিম ভোটারদের ভোটদানের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ফলে এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্যের পাশাপাশি ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: ডন








