হাতির মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের দামি কফি ‘ব্ল্যাক আইভরি’

বিশ্বের অন্যতম বিরল ও ব্যয়বহুল কফি হিসেবে পরিচিত ‘ব্ল্যাক আইভরি’ কেন সাধারণ কফির তুলনায় কম তেতো ও বেশি মোলায়েম—এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন গবেষকরা।
বিজ্ঞাপন
জাপানের ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স, টোকিওর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এশীয় হাতির পাচনতন্ত্রে থাকা বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়াই এই কফির স্বাদের পার্থক্যের মূল কারণ।
থাইল্যান্ডের একটি হাতি অভয়ারণ্যে উৎপাদিত হয় ব্ল্যাক আইভরি কফি। সেখানে হাতিদের আরাবিকা জাতের কফি চেরি খাওয়ানো হয়। পরবর্তীতে হাতির মল থেকে কফির বীজ সংগ্রহ করে তা ভালোভাবে পরিষ্কার ও ভাজা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কফির স্বাদে আসে ভিন্নতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, কফি চেরি খাওয়ার পর হাতিদের অন্ত্রে এমন ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়, যেগুলো পেকটিন ভাঙতে সক্ষম। পেকটিন কফি বীজে থাকা একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা ভাজার সময় ভেঙে গেলে কফির তেতো স্বাদ বাড়ায়। তবে হাতির অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া আগেই পেকটিনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে ভাজার পর কফিতে তেতো ভাব কম থাকে এবং স্বাদ হয় মসৃণ ও মৃদু।
বিজ্ঞাপন
গবেষণার সহলেখক ও সহযোগী অধ্যাপক তাকুজি ইয়ামাদা বলেন, “হাতির অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টি কফির স্বাদের গুণগত মানে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, আমাদের গবেষণা সেই বিষয়টি বোঝার একটি সম্ভাব্য দিক নির্দেশ করেছে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কফি বীজের পাচনের আগে ও পরে বিস্তারিত রাসায়নিক বিশ্লেষণ করা হলে এই প্রক্রিয়া আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, কফি চেরি খাওয়া হাতিদের অন্ত্রে জীবাণুর বৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। এই বৈচিত্র্য পেকটিন ভাঙার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যা কফির স্বাদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু কফির ক্ষেত্রেই নয়, প্রাণীর পাচন প্রক্রিয়া ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া কীভাবে খাবারের স্বাদ ও গুণমান বদলে দিতে পারে, সে বিষয়ে নতুন ধারণা দেয়। ভবিষ্যতে নতুন ধরনের কফি কিংবা অন্যান্য গাঁজন করা খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রেও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞাপন
গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।








