মুখ ঢেকে ঘুমালে কী হয়? বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা

ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে পুনরায় কর্মক্ষম করে তোলে একটি ভালো ও গভীর ঘুম। কিন্তু অনেক সময় অজান্তেই আমরা এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি, যা ঘুমের উপকারিতা কমিয়ে দেয়। তেমনই একটি অভ্যাস হলো কাঁথা বা কম্বল দিয়ে পুরো শরীরের সঙ্গে মুখ ঢেকে ঘুমানো।
বিজ্ঞাপন
অনেকেই মনে করেন, এতে ঠান্ডা লাগা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, বাইরের শব্দ কম শোনা যায় কিংবা এক ধরনের নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। শীতের রাতে এটি আরও বেশি দেখা যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত এই অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে।
শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা ও অক্সিজেনের ঘাটতি
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শ্বাস নেওয়ার অসুবিধা। মুখ ঢেকে ঘুমালে কাঁথা বা কম্বলের ভেতরে নিঃশ্বাসের বাতাস জমে থাকে। আমরা যে বাতাস ছাড়ি, তাতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেশি। সেই বাতাসই বারবার শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকতে থাকলে অক্সিজেনের মাত্রা তুলনামূলক কমে যায়। ফলে রাতে ঘুমের মধ্যে অস্বস্তি, অস্থিরতা বা অজান্তেই বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা ভার লাগা, ঝিমুনি বা হালকা মাথাব্যথা অনুভব হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
ঘুমের মানের অবনতি
পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেলে গভীর ও আরামদায়ক ঘুম হয় না। অনেকেই মনে করেন সারারাত বিছানায় ছিলেন মানেই ভালো ঘুম হয়েছে। কিন্তু মুখ ঢেকে ঘুমানোর কারণে ঘুমের মান খারাপ হলে শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় না। ফলে সকালে উঠেই ক্লান্তি, অবসাদ বা মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পড়াশোনা বা কাজের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
ত্বকের সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা
মুখ ঢেকে ঘুমালে কাঁথার ভেতরে ঘাম ও আর্দ্রতা জমে যায়। উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য অনুকূল। এতে মুখের ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ি, চুলকানি বা র্যাশের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল বা আগে থেকেই ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকি
বিজ্ঞাপন
কাঁথায় ধুলা, ডাস্ট মাইট, জীবাণু কিংবা ছত্রাক লেগে থাকতে পারে। মুখ ঢেকে শ্বাস নেওয়ার সময় এসব ময়লা সরাসরি নাক ও ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফলে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ হওয়া বা শ্বাসনালির সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। যাদের হাঁপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই অভ্যাস বিশেষভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।
নাক-মুখ অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া
বিজ্ঞাপন
কাঁথার ভেতরের গরম বাতাস অনেক সময় শুষ্ক হয়। এতে নাকের ভেতর খুসখুস ভাব, গলা শুকিয়ে যাওয়া বা ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। রাতে বারবার পানি পিপাসা লাগা বা গলা ব্যথা নিয়েও অনেকে ঘুম ভাঙেন।
কী করবেন?
স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য মুখ খোলা রেখে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। কাঁথা দিয়ে শুধু শরীর ঢেকে রাখুন। নিয়মিত পরিষ্কার বিছানার চাদর ব্যবহার করুন এবং ঘরে সামান্য বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
বিজ্ঞাপন
ছোট একটি অভ্যাস বদলালেই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। একটু সচেতন থাকলেই ঘুম হবে আরামদায়ক হবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া,আমেরিকান ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন








