সঠিক আলোকসজ্জায় বদলে যেতে পারে ঘরের পুরো চেহারা

ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানো ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরিতে আলোকসজ্জার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে লাইট ব্যবহারে সামান্য কিছু ভুলের কারণে অনেক সময় ঘর প্রয়োজনের তুলনায় অন্ধকার বা অতিরিক্ত ঝলমলে হয়ে ওঠে, যা চোখের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সঠিক লাইটিং মানে শুধু ঘর উজ্জ্বল করা নয়; এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়, চোখের সুরক্ষা এবং মানসিক স্বস্তির সঙ্গেও জড়িত। তাই ঘরের আলোর পরিকল্পনা করার সময় কিছু সাধারণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইটিং পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক আলোকে উপেক্ষা করা বড় একটি ভুল। সূর্যের আলো চোখের জন্য উপকারী এবং দিনের বেলা ঘরকে স্বাভাবিকভাবে আলোকিত রাখতে সাহায্য করে। ঘরের নকশায় পর্যাপ্ত জানালা কিংবা স্বচ্ছ কাঁচ ব্যবহার করলে দিনের আলো সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
অন্যদিকে, অনেকেই অন্ধকার এড়াতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল লাইট ব্যবহার করেন, যা চোখে চাপ সৃষ্টি করে এবং ঘরের পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে। তাই ঘরের আয়তন ও ছাদের উচ্চতা অনুযায়ী আলোর উজ্জ্বলতা নির্ধারণ করা উচিত।
বিজ্ঞাপন
শুধু একটি সিলিং লাইটের ওপর নির্ভর না করে টেবিল ল্যাম্প, ফ্লোর ল্যাম্প ও ওয়াল লাইটের সমন্বয় করলে ঘরে আলোর ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে ঘর দেখতেও সুন্দর হয় এবং ব্যবহারেও সুবিধা পাওয়া যায়।
চোখে সরাসরি লাগে এমন ঝলমলে আলো বা শেডবিহীন বাতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের আলো চোখের ক্লান্তি ও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। অনেক সময় ডেকোরেটিভ বা শোপিস লাইটকে মূল আলো হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা পর্যাপ্ত আলোর ঘাটতি তৈরি করে।
ঘরের দেয়ালের রঙও আলোর প্রয়োজনীয়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাঢ় রঙের দেয়াল আলো শোষণ করে নেয়, ফলে সেখানে অতিরিক্ত লাইট দরকার হয়। বিপরীতে হালকা রঙের দেয়াল আলো প্রতিফলিত করে ঘরকে স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল রাখে।
বিজ্ঞাপন
আলোর নিয়ন্ত্রণে সাধারণ অন-অফ সুইচের পরিবর্তে ডিমার সুইচ ব্যবহার করলে একই লাইটের উজ্জ্বলতা প্রয়োজন অনুযায়ী কমানো বা বাড়ানো যায়। পাশাপাশি লাইট বসানোর সময় ছায়া কোথায় পড়ছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। ভুল স্থানে লাইট বসালে কাজের সময় ছায়া পড়ে বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমানে স্মার্ট হোম সিস্টেম বা জোনভিত্তিক লাইট ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যেমন সম্ভব, তেমনি আলোর নিয়ন্ত্রণও সহজ হয়। শুধু ওয়াট বা উজ্জ্বলতার দিকে নজর না দিয়ে কালার টেম্পারেচার ও কালার রেন্ডারিং ইনডেক্স (CRI) বিবেচনায় নিলে চোখের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়।
সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনভাবে লাইট ব্যবহার করলে খুব সহজেই ঘরের পরিবেশে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস








