কুমড়ার বীজ বেশি খেলে শরীরে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে

কুমড়ার বীজ আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ এই বীজ পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরের জন্য উপকারী। তবে মুচমুচে স্বাদের কারণে অনেক সময় অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তখনই শুরু হতে পারে নানা শারীরিক অস্বস্তি। অতিরিক্ত কুমড়ার বীজ খেলে শরীরে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা জেনে নেওয়া যাক—
বিজ্ঞাপন
১. পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা: কুমড়ার বীজে প্রচুর ফাইবার রয়েছে, যা পরিমিত মাত্রায় হজমে সহায়তা করে। কিন্তু একসঙ্গে বেশি ফাইবার গ্রহণ করলে অন্ত্রে চাপ পড়ে। এর ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস জমা এবং পেটে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ফাইবার অন্ত্রে গাঁজন প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়, যার ফল হিসেবে গ্যাসের সৃষ্টি হয়।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার ঝুঁকি: কুমড়ার বীজে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—দুই ধরনের ফাইবারই থাকে। অতিরিক্ত অদ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের গতি বাড়িয়ে ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। আবার পর্যাপ্ত পানি না খেলে একই ফাইবার মল শক্ত করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও তৈরি করতে পারে।
৩. পেটে ব্যথা ও বদহজম: কুমড়ার বীজের খোসা শক্ত এবং এতে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, যা হজম হতে সময় নেয়। একবারে বেশি খেলে পেটে ক্র্যাম্প, ভারী ভাব কিংবা বদহজম দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল হজমশক্তির মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
৪. অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ: যদিও কুমড়ার বীজ স্বাস্থ্যকর, তবু এতে ক্যালোরির পরিমাণ কম নয়। এক কাপ ভাজা কুমড়ার বীজে প্রায় ২৮৫ ক্যালোরি থাকে। নিয়মিত অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অজান্তেই দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে, যা ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
৫. সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়া: বাজারে পাওয়া অনেক প্যাকেটজাত কুমড়ার বীজে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। এতে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে পানি জমে যাওয়া, পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা এবং সাময়িকভাবে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।








