Logo

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুন, ২০২৬, ১৫:১০
আজ বিশ্ব বাবা দিবস
ছবি: সংগৃহীত

বাবা—একটি ছোট শব্দ, অথচ এর মধ্যেই জড়িয়ে আছে সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সাহস, নিরাপত্তা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি। সন্তানের সুখ-স্বপ্ন পূরণে নিরলস পরিশ্রম করা, পরিবারকে আগলে রাখা এবং জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে ছায়ার মতো পাশে দাঁড়ানো মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব বাবা দিবস।

বিজ্ঞাপন

আজ (২১ জুন) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিবসটি। যদিও এটি সরকারি কোনো দিবস নয়, তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ উপলক্ষে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বেড়েছে। অনেকে এদিন বাবাকে উপহার দেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতি, অনুভূতি ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।

বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট শহরে প্রথমবারের মতো বাবাদের সম্মান জানিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে দিবসটিকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ওয়াশিংটনের বাসিন্দা সোনোরা স্মার্ট ডড।

বিজ্ঞাপন

মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট একাই ছয় সন্তানকে বড় করে তুলেছিলেন। বাবার সেই অসাধারণ ত্যাগ ও দায়িত্ববোধে অনুপ্রাণিত হয়ে ডড মনে করেন, মায়েদের জন্য যেমন একটি বিশেষ দিন রয়েছে, তেমনি বাবাদের জন্যও একটি দিন থাকা উচিত। তার উদ্যোগেই ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস পালন করা হয়।

এরপর ধীরে ধীরে দিবসটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাবা দিবসকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ দিবসটি পালনের প্রতি সমর্থন জানান। পরে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে বাবা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। সবশেষে ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আইনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবসকে স্থায়ী জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়। যদিও কিছু দেশে নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কারণে ভিন্ন তারিখে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত জীবনের এই সময়ে বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য এমন একটি দিন পারিবারিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। তবে শুধু একটি দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিনই বাবার প্রতি সম্মান, যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশের হওয়া উচিত। কারণ একজন বাবা তার সন্তানের জীবনে শুধু অভিভাবক নন, তিনি প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD