Logo

৯০০ টাকা দিলেই মিলছে সুদর্শন পুরুষের পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গন

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৪১
৯০০ টাকা দিলেই মিলছে সুদর্শন পুরুষের পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গন
ছবি: সংগৃহীত

মানসিক চাপ, একাকিত্ব কিংবা সারাদিনের ক্লান্তি থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে মানুষ নানা উপায় খুঁজে নেয়। তবে চীনে সম্প্রতি এমন এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যেখানে অর্থের বিনিময়ে কয়েক মিনিটের জন্য পেশিবহুল, শান্ত ও যত্নশীল পুরুষের কাছ থেকে আলিঙ্গন নিচ্ছেন তরুণীরা।

বিজ্ঞাপন

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের পুরুষদের ‘ম্যান মাম’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। সহজভাবে বলতে গেলে, শক্তপোক্ত শারীরিক গঠনের পাশাপাশি যাদের আচরণ কোমল, ধৈর্যশীল এবং সান্ত্বনা দেওয়ার মতো, তাদেরই এই নামে ডাকা হচ্ছে।

যেভাবে শুরু

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই প্রবণতার শুরু হয়। পড়াশোনার চাপ সামলাতে গিয়ে তিনি একজন ভদ্র ও পেশিবহুল পুরুষের কাছ থেকে পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গন চেয়েছিলেন। ওই তরুণীর দাবি ছিল, এ ধরনের আলিঙ্গন তাকে আগে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক অনুভূতি দিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দক্ষিণ চীনের একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই পোস্টে এক লাখের বেশি মন্তব্য জমা পড়ে। এরপর চীনের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের সঙ্গী খোঁজার পোস্টও বাড়তে শুরু করে।

পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গনে প্রায় ৯০০ টাকা

এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পেশা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা। আগ্রহী পুরুষদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের পর তাদের বাছাই করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শারীরিক গঠন, ভদ্রতা, ধৈর্য ও স্বভাব—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সাধারণত কাউকে নির্বাচন করা হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মেট্রোস্টেশন বা কেনাকাটার কেন্দ্রের মতো প্রকাশ্য জায়গায় দেখা করার চেষ্টা করা হয়।

সাধারণত পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গনের জন্য নেওয়া হয় ২০ থেকে ৫০ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯০০ টাকার কাছাকাছি।

শুধু আলিঙ্গন নয়, কথা বলতেও চান অনেকে

বিজ্ঞাপন

এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পুরুষও তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বলেন, অন্য মানুষের মুখে স্বস্তি দেখতে পারাটাও তাদের কাছে ভালো লাগার বিষয়।

আবার অনেক নারী শুধু আলিঙ্গন নিতে চান না, নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়েও কথা বলতে চান। চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা, কর্মক্ষেত্রের চাপ কিংবা পড়াশোনার নানা সমস্যা নিয়ে তারা এসব পুরুষের সঙ্গে সময় কাটান এবং কথা বলেন।

সেবাটির সঙ্গে যুক্ত একজন পুরুষ জানান, তিনি ভালো সাড়া পেয়েছেন। একাধিকবার আলিঙ্গন দেওয়ার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থও আয় করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কেন বাড়ছে এমন প্রবণতা?

শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, একাকিত্ব, পড়াশোনার চাপ, কর্মজীবনের মানসিক চাপ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন—এসব কারণে অনেক মানুষ মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরিচিত মানুষের গণ্ডির বাইরে কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে অল্প সময়ের জন্য পাওয়া সান্ত্বনাও অনেকের কাছে স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে।

তবে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া এ ধরনের আলিঙ্গনকে মানসিক চিকিৎসা কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বীকৃত কোনো পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

বিজ্ঞাপন

নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন

অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে যৌন হয়রানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে এ ধরনের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীনে আলোচনায় আসা এই নতুন প্রবণতা তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ব্যতিক্রমী বিষয় নয়। বরং আধুনিক শহুরে জীবনে একাকিত্ব, মানসিক চাপ এবং মানুষের আবেগগত সংযোগের প্রয়োজন কতটা বেড়েছে, সেটিও এই প্রবণতার মাধ্যমে ফুটে উঠছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD