বিশ্ব গণমাধ্যমের বিশেষ ফিচারে সাকিফ শামীম-ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল

“আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার পরবর্তী প্রজন্মের স্থপতি” শিরোনামের বিশেষ ফিচারে উঠে এসেছে ল্যাবএইডের প্রযুক্তিনির্ভর ক্যান্সার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা রূপান্তরের গল্প।
বিজ্ঞাপন
ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার এবং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান টাইম ম্যাগাজিনের “দ্য ১০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স”-এর সঙ্গে প্রকাশিত বিশেষ ফিচারে স্থান পেয়েছেন। “ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল: দ্য আর্কিটেক্ট অব দ্য নেক্সট জেনারেশন অফ মডার্ন হেলথকেয়ার” শিরোনামের এই ফিচারে সাকিফ শামীমের নেতৃত্বে ল্যাবএইডের প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা ও প্রিসিশন অনকোলজিতে রূপান্তরের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
ফিচারটিতে ল্যাবএইডের জেনোমিক-গাইডেড অনকোলজি, লিকুইড বায়োপসি, মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ড, অ্যাডভান্সড রেডিয়েশন টেকনোলজি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-বেইজড হেলথকেয়ার সলিউশনের মতো উদ্যোগ বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি ও সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীর জন্য আরও নির্ভুল, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও তথ্যনির্ভর ক্যান্সার চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাকিফ শামীম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য জেনোমিক, প্রোটিওমিক ও মেটাবলিক তথ্যকে একত্র করে প্রতিটি রোগীর জন্য আরও নিখুঁত, অভিযোজনযোগ্য এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা কৌশল তৈরি করা।” তাঁর নেতৃত্বে ল্যাবএইড দক্ষিণ এশিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রিসিশন অনকোলজি কেয়ারের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ফিচারটিতে ল্যাবএইডের দীর্ঘমেয়াদি ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ডসকে গবেষণা ও মেশিন লার্নিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ল্যাবএইডের নিজস্ব এআই সিস্টেম “লুনা” জটিল ক্লিনিক্যাল ইনফরমেশন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্তকরণে ভূমিকা রাখছে।
দেশব্যাপী উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ল্যাবএইড একটি টেকনোলজি-এনেবলড হাব-অ্যান্ড-স্পোক মডেল গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্যাটেলাইট সেন্টারের মধ্যে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ডস এবং সমন্বিত ট্রিটমেন্ট প্রটোকল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে লাইফপ্লাস বাংলাদেশ-এর প্রেডিকটিভ এআই প্ল্যাটফর্ম এবং ল্যাবএইড ইনসুরটেকের এআই-অ্যাসিস্টেড ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম প্রসেসিং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও রোগীকেন্দ্রিক করার উদ্যোগকে এগিয়ে নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ল্যাবএইড মাউন্ট সিনাই, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল, সিমেন্স এবং জিই-এর মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে অ্যাডভান্সড ক্লিনিক্যাল কেয়ার, রিসার্চ এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মানবসম্পদ উন্নয়নকেও এই রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে ল্যাবএইড। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্সেসের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে অনকোলজি নার্সিং, মেডিকেল ফিজিক্স এবং হেলথকেয়ার ডেটা ম্যানেজমেন্টে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে ল্যাবএইড তার শয্যাসংখ্যা ৩ হাজার ৫০০-তে উন্নীত করার পাশাপাশি বর্তমান প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
সাকিফ শামীম বলেন, “আমি এমন একটি টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থার অংশ হতে চাই, যেখানে উন্নত প্রযুক্তি, ক্লিনিক্যাল গবেষণা, সহজলভ্যতা এবং মানবিক যত্নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হলো ক্যান্সার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত যেন আর্থিক সীমাবদ্ধতার পরিবর্তে চিকিৎসাগত প্রয়োজন ও জরুরিতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।”
বিজ্ঞাপন
টাইম ম্যাগাজিনের এই আন্তর্জাতিক ফিচার ল্যাবএইডের প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা রূপান্তরের পাশাপাশি বাংলাদেশের হেলথকেয়ার ইনোভেশন ও এআই-এনেবলড মেডিকেল কেয়ারের সম্ভাবনাকেও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছে।








