Logo

রোহিঙ্গা সংকটের মূলে মিয়ানমার, সমাধানও সেখানেই: ইউএনএইচসিআর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর, ২০২৫, ১৪:৩৯
রোহিঙ্গা সংকটের মূলে মিয়ানমার, সমাধানও সেখানেই: ইউএনএইচসিআর
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারের ভেতরেই সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডি।

বিজ্ঞাপন

তিনি সতর্ক করে বলেন, মিয়ানমার সাহসী পদক্ষেপ না নিলে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের দুর্দশার অবসান হবে না।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত “মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি” বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি বলেন, “সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, আর সমাধানও সেখানেই।”

বিজ্ঞাপন

গ্রান্ডি স্মরণ করিয়ে দেন, আট বছর আগে মিয়ানমারের সেনাদের সহিংসতার কারণে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। অনেকে রাখাইন রাজ্যেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়ে গেছে। বর্তমানে আরাকান আর্মি রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা দখলে নিলেও রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং তাদের জীবন কাটছে গ্রেপ্তারের ভয়, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার সংকট, চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা, জোরপূর্বক শ্রম এবং প্রতিনিয়ত বৈষম্যের ভেতর দিয়ে।

বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইউএনএইচসিআর প্রধান বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে এবং ২০২৪ সালে নতুন সংঘাত শুরু হওয়ার পর আরও দেড় লাখ শরণার্থীকে গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার প্রশংসা করলেও তিনি মানবিক সহায়তা তহবিল ঘাটতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, পর্যাপ্ত তহবিল না থাকলে শিশুদের অপুষ্টি বেড়ে যাবে এবং আরও শরণার্থী বিপজ্জনক সমুদ্রপথে জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল মানবিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। এই সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারেই খুঁজতে হবে।

রাখাইন উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশগুলোকে এখনো কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে গ্রান্ডি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন জরুরি।

বিজ্ঞাপন

তিনি প্রভাবশালী দেশগুলোকে আহ্বান জানান, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আস্থা পুনঃস্থাপনে কাজ করার জন্য।

গ্রান্ডি বলেন, “আমরা উদাসীন থাকতে পারি না। একটি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস হতে দিয়ে সমাধানের আশা করা যায় না। মিয়ানমারের জনগণের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও ভবিষ্যৎমুখী অধ্যায় শুরু করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।”

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD