হাদি হত্যা : ভারতে আটকদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস এখনো মেলেনি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বাংলাদেশ সরকার কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাইলেও এখনো সে অনুমতি মেলেনি। একই সঙ্গে এই মামলার দুই আসামিকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ফিলিপ সাংমার সঙ্গেও সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কলকাতা ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: একদিনেই পুলিশের ২১ কর্মকর্তাকে বদলি
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ আশা করছে, এ বিষয়ে ভারত সরকার সহযোগিতা করবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ নয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন একটি চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি এখনো ওই প্রতিবেদনটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ পাননি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে বহু ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত র্যাবকে অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিএনপি একটি মানবিক সরকার হিসেবে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও তা শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই কাজ করছে। তবে র্যাব সংক্রান্ত বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত হওয়ায় এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অধিক প্রাসঙ্গিক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিকে সামনে রেখে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
এর আগে রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বিজ্ঞাপন
সেই বৈঠকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে জ্বালানি সংকট নেই। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি খাতে আলোচনা চলতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা দেশে ফিরতে চান তাদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর যারা আপাতত ফিরতে পারছেন না, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।








