Logo

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক জোরদারে সই হলো ২ চুক্তিসহ ১৩ সমঝোতা স্মারক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জুন, ২০২৬, ১৯:৪৮
ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক জোরদারে সই হলো ২ চুক্তিসহ ১৩ সমঝোতা স্মারক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর দুটি চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দুটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এসব দলিল দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সরকারি সূত্র জানায়, স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে সম্পাদিত হয়েছে।

চীন সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ অংশ নেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সেখানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতিগত সুবিধার কথাও আলোচনায় স্থান পায়।

এদিকে সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, চীনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে।

বিজ্ঞাপন

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ বৈঠক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এর আগে বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলন শেষে তিনি বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের এবারের সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ প্রায় ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের ফাঁকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD