মাঠপর্যায়ে পুলিশের কাজ সরাসরি নজরদারির নির্দেশ আইজিপির

মাঠপর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি মনিটরিং বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় রাজধানীসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম, অপরাধ দমন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ
বিজ্ঞাপন
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, রাজধানীতে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস। ফলে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা শুধু রাজধানীর জন্য নয়, পুরো দেশের স্থিতিশীলতার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কাজ আরও গতিশীল করতে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে যথাযথ মনিটরিং ও দায়িত্বশীল তদারকি থাকলে অধস্তন পুলিশ সদস্যরা আরও উৎসাহের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইজিপি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার আহ্বান
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যায় বা কোনো ধরনের চাপের কাছে মাথা নত না করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ভুল কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন আইজিপি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্ব
পুলিশের পেশাদারিত্ব ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, দল-মত নির্বিশেষে পুলিশের পরিচয় একটাই—পুলিশ আইন ও জনগণের সেবক।
তিনি পুলিশ সদস্যদের আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন এবং জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত যাতে পুলিশের কার্যক্রমকে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়েও কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলেন।
বিজ্ঞাপন
মাদকের বিরুদ্ধে থাকবে জিরো টলারেন্স
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে।
একই সঙ্গে বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার এবং ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলাকে পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন আইজিপি।
বিজ্ঞাপন
সাইবার অপরাধ ও গুজব মোকাবিলায় সতর্কতা
আইজিপি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব বিষয়ে পুলিশকে আরও দক্ষ ও সতর্ক হতে হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশকে অকার্যকর করার কোনো ষড়যন্ত্র এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচার মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিজ্ঞাপন
সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলামসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় দেওয়া নির্দেশনার মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তদারকি জোরদার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ এবং পরিবর্তিত অপরাধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব বাড়ানোর ওপর পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বারোপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।








