Logo

ট্রেনের টিকিট কেটেও মিলছে না আসন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মার্চ, ২০২৬, ২১:১৪
ট্রেনের টিকিট কেটেও মিলছে না আসন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ছিল অফিস-আদালতের শেষ কর্মদিবস। এদিন বিকেল গড়াতেই চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ায় স্টেশনে যাত্রীচাপ চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটধারীদের ঈদযাত্রা শুরু হয়। সেই হিসেবে সোমবার ছিল অগ্রিম টিকিটধারীদের যাত্রার চতুর্থ দিন। গত তিন দিনে স্টেশনে তেমন ভিড় না থাকলেও সোমবার বিকেল থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যায়। বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ট্রেনের পাশাপাশি স্টেশনের প্রায় সব প্ল্যাটফর্মেই যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাত ৮টার দিকে কমলাপুর স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর ও বুড়িমারী অভিমুখে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়। উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করা এই ট্রেনে ঘরমুখো যাত্রীদের ব্যাপক চাপ ছিল। অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করা হলেও অনেক যাত্রীকে ঠাসাঠাসি করে ট্রেনে উঠতে দেখা যায়। এমনকি কেউ কেউ দরজার পাশে ঝুলে ঝুলে যাত্রা করছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে কাউকে ট্রেনের ছাদে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

রংপুরে দাদার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাবা-মা ও দুই বোনের সঙ্গে স্টেশনে এসেছিলেন মুন্নি। তিনি জানান, তার বাবার অফিস শেষে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে স্টেশনে পৌঁছান। যদিও তাদের অগ্রিম টিকিট ছিল, তবুও ট্রেন ছাড়ার আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট বগি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দ্রুত একটি বগিতে উঠে যাত্রা শুরু করেন তারা।

অনেক যাত্রী নির্ধারিত ট্রেনে উঠতে পারলেও নিজের নির্দিষ্ট আসন খুঁজে পাননি। আবার কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ার কারণে টিকিট থাকা সত্ত্বেও ট্রেনে উঠতে পারেননি।

জসিম, ছাইদুল ও রোকন—এই তিন বন্ধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে যাওয়ার জন্য আগেই টিকিট কেটেছিলেন। তারা রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অফিস শেষে দেরিতে বের হওয়ায় রাত ৮টা ১০ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছান তারা। কিন্তু ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় তাদের যাত্রা মিস হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

ট্রেন মিস করার পর তারা অভিযোগ করে বলেন, সাধারণত নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে ট্রেন ছাড়তে দেখা যায়। কিন্তু এদিন সময়মতো ট্রেন ছাড়ায় তারা অল্পের জন্য যাত্রা করতে পারেননি। এখন বাসে করে যেতে হবে, যা খরচের পাশাপাশি কষ্টও বাড়াবে।

শুধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নয়, অন্যান্য ট্রেনও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে। এতে সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও অনেকে টিকিট থাকা সত্ত্বেও নিজেদের আসনে বসতে পারেননি বা নির্ধারিত বগি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্টেশনে দায়িত্বরত ট্রেনের টিকিট পরীক্ষকরা জানান, গত তিন দিনের তুলনায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করেছে। সামনে আরও কয়েক দিন এই চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বুধবার পর্যন্ত কাজ থাকায় ওই দিন ঘরমুখো যাত্রীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD