নির্বাচনের পরিবেশ সন্তোষজনক, সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা সিইসির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় আপিল গ্রহণের জন্য স্থাপিত বুথগুলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সিইসি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বড় অনিয়ম বা অস্থির পরিস্থিতি চোখে পড়েনি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর এবং সকল পক্ষের সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার থেকেই সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন দাখিল করতে পারছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী, ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত ঘোষণার পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের ক্ষেত্রে এক সেট মূল কাগজপত্র এবং ছয় সেট ছায়ালিপি (ফটোকপি) মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আপিল গ্রহণ ও শুনানি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সারাদেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করেছে। প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নির্বাচন ভবনে আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রংপুর অঞ্চলের আপিল গ্রহণ করা হচ্ছে বুথ-১–এ (আসন ১–৩৩), রাজশাহী অঞ্চলের জন্য বুথ-২ (আসন ৩৪–৭২), খুলনা অঞ্চলের জন্য বুথ-৩ (আসন ৭৩–১০৮), বরিশাল অঞ্চলের জন্য বুথ-৪ (আসন ১০৯–১২৯), ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্য বুথ-৫ (আসন ১৩০–১৬৭), ঢাকা অঞ্চলের জন্য বুথ-৬ (আসন ১৬৮–২০৮), ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য বুথ-৭ (আসন ২০৯–২২৩), সিলেট অঞ্চলের জন্য বুথ-৮ (আসন ২২৪–২৪২), কুমিল্লা অঞ্চলের জন্য বুথ-৯ (আসন ২৪৩–২৭৭) এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের আপিল গ্রহণ করা হচ্ছে বুথ-১০–এ (আসন ২৭৮–৩০০)।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল আবেদনের ওপর পর্যায়ক্রমে শুনানি শুরু হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে আপিলের সংখ্যা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা অথবা তাঁর প্রতিনিধি এবং আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে। শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শন করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইলে রায়ের পিডিএফ কপি পাঠানো হবে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ভবন থেকে আপিলের রায়ের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ জানুয়ারির শুনানির রায় ১২ জানুয়ারি, ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারির শুনানির রায় ১৮ জানুয়ারি বিতরণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনগত কাঠামো আরও সুসংহত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।








