গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এই গণভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া ভিডিও বার্তাটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়।
বার্তার শুরুতে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল জাতির ইতিহাসে এক অনন্য সাফল্য, যা হঠাৎ করেই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই অর্জনকে স্থায়ী রূপ দিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরও ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে দেশের সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত মতের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ কার্যকর করতে জনগণের সম্মতি প্রয়োজন বলেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বাংলাদেশ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের পথ থেকে বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সরকার এককভাবে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করতে পারবে না; এসব বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিরা নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় উচ্চকক্ষ গঠন, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা জোরদার, রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও সনদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রকে নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে তুলতে সবাইকে গণভোটে অংশ নিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিতে হবে। তিনি সবাইকে অন্যদের ভোট দিতে উৎসাহিত করারও অনুরোধ জানান। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন জনগণের হাতেই।








