ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ডিএসসিসির বিশেষ উদ্যোগ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ লক্ষ্যে গৃহীত প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নগর ভবনে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
বিজ্ঞাপন
সভায় জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, অবৈধ টিকিট কাউন্টার উচ্ছেদ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি এবং সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন শ্রমিক কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় যানজট কমাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা টিকিট কাউন্টার ও দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত রয়েছে। সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত সড়কের পাশের সব অবৈধ টিকিট কাউন্টারকে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে নোটিশ প্রদান করা হবে এবং পরে সেগুলো অপসারণ করা হবে। একই সঙ্গে টার্মিনালের ভেতরে থাকা অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
টার্মিনালের ভেতরে প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে টিকিট কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ কাজে বাস মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বাসগুলো টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। নির্ধারিত পাঁচটি বাস-বে ব্যবহার করে যাত্রী ওঠানামা করাতে হবে এবং কোনো বাস সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি সেখানে অবস্থান করতে পারবে না।
যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের জন্য টার্মিনালে তথ্য কেন্দ্র (ইনফরমেশন ডেস্ক) এবং মাতৃদুগ্ধ পান করানোর জন্য আলাদা কক্ষ (ব্রেস্টফিডিং রুম) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদযাত্রার আগে টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ শেষ করা, শৌচাগার মেরামত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সংখ্যা বাড়ার সুযোগে কোনো পরিবহন যাতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতিকে কঠোর নজরদারি চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া টার্মিনালের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাসগুলো জব্দ করে অপসারণের দায়িত্ব ট্রাফিক বিভাগকে দেওয়া হয়েছে, যাতে সড়কের যানজট কমানো সম্ভব হয়।
বিজ্ঞাপন

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং দীর্ঘমেয়াদে যানজট কমাতে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, বাস মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন প্রশাসকের সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিচালনা কমিটির দ্বাদশ কর্পোরেশন সভাও মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বোর্ড সদস্যরা প্রশাসককে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নে প্রশাসক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








